Sunday 08 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬
পাকিস্তানের ‘চুক্তিভঙ্গ’, আইসিসির কারণ দর্শানোর নোটিশ

স্পোর্টস ডেস্ক
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২৫

আইসিসির নানা ‘হুমকিতেও’ পিছু হটেননি তারা। টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো চলছে নানা আলোচনা। বিশ্বকাপ শুরুর একদিন পর জানা গেল, ভারতের সঙ্গে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘চুক্তিভঙ্গ’ করেছে পাকিস্তান। পিসিবিকে তাই দেওয়া হয়েছে কারণ দর্শানোর নোটিশও।

ক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার পেছনে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ধারা প্রয়োগের যুক্তি তুলে ধরে পিসিবি আইসিসিকে মেইল করেছে। সেখানে পাকিস্তান সরকারের নির্দেশনাকেই মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকারের এক্স একাউন্ট থেকে জানানো হয়, টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান। তবে সেখানে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

ফোর্স ম্যাজিউর হলো একটি চুক্তিগত সুরক্ষা, যা কোনো পক্ষকে তার বাধ্যবাধকতা পালনের ব্যর্থতা থেকে দায়মুক্তি দেয়। সেক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বা পূর্বানুমান করা যায় না এমন ঘটনা দেখাতে হয়। আইসিসির গঠনতন্ত্রে ফোর্স ম্যাজিউর হিসেবে যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি সরকারের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা পালনের বিষয়ও অন্তর্ভূক্ত। ভারত–ম্যাচ বয়কটের পেছনে পিসিবি তার দেশের সরকারের নির্দেশনাকে ফোর্স ম্যাজিউর হিসেবে দেখিয়েছে।

পিসিবির মেইলের পর আইসিসি বলছে, সদস্যদের অংশগ্রহণ চুক্তি (মেম্বার্স পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) অনুযায়ী ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ধারা প্রয়োগ করতে হলে বোর্ডকে প্রমাণ করতে হবে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এবং ক্ষতি কমাতে তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছে। তাই পিসিবির কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণ চাওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি আইসিসি এটাও জানিয়েছে, ম্যাচে অংশ না নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রীড়া, বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক তিন ক্ষেত্রেই বড় প্রভাব পড়তে পারে।

ক্রিকইনফোর ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বয়কট কার্যকর হলে আইসিসি ‘ম্যাটেরিয়াল ড্যামেজেস’ বা উল্লেখযোগ্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে বলে পিসিবিকে জানিয়েছে। এ ছাড়া আইসিসি বলেছে, তারা সংঘাত এড়াতে চায়; তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গুরুতর দায়ভঙ্গ প্রমাণিত হলে আইসিসি বোর্ড সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল করার মতো চরম পদক্ষেপও নিতে পারে।

অবশ্য পিসিবি এ ক্ষেত্রে নিজেদের যুক্তিকে শক্তিশালী মনে করছে। ২০১৪ সালের একটি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার কথা ভারত-পাকিস্তান। তবে বিসিসিআই তা না খেলায় পিসিবি ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইসিসির ডিসপিউজ রেজ্যুলেশন কমিটি পর্যন্ত গিয়েছিল। সেই মামলায় পিসিবি হেরে যায়। বিসিসিআইয়ের পক্ষে রায় হয়েছিল সরকারের অনুমতি না থাকার যুক্তিতে। পিসিবি এবার সেটিকে নজির হিসেবে দেখছে।

আইসিসি ও পিসিবির এই অবস্থানের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে আজ আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আরেক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ। আইসিসির সিইও সঞ্জোগ গুপ্তা এ উদ্দেশে বিশ্বকাপ শুরুর দিন কলম্বোয় গেছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর