ঢাকা: রমজান মাসে নির্ধারিত অমর একুশে বইমেলা স্থগিত করে ঈদের পর আয়োজনের দাবি জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে খোলা চিঠি দিয়েছে প্রকাশকদের সংগঠন প্রকাশক ঐক্য। একই সঙ্গে দেশের প্রকাশনা শিল্পকে রক্ষায় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সংগঠনটি।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ১৪ জন প্রকাশকের সই করা চিঠিতে জানানো হয়, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজানে বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তে তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। রোজার সময় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে মেলা পাঠকশূন্য হয়ে পড়তে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
নতুন সরকারের কাছে প্রকাশকদের দুই দাবি- ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্ধারিত বইমেলা স্থগিত করা এবং ঈদের পর অনুকূল পরিবেশে মেলার আয়োজন করা।
চিঠিতে দাবি করা হয়, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশক মনে করছেন রমজানে মেলায় অংশ নেওয়া তাদের জন্য ‘ব্যবসায়িক আত্মহত্যা’র শামিল হবে। এরই মধ্যে মূলধারার তিন শতাধিক প্রকাশক অংশ নিতে অপারগতার কথা জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রকাশকরা জানান, গত দেড় বছরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রকাশনা শিল্প মারাত্মক সংকটে পড়েছে। কাগজের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত দুই মাস ছাপাখানাগুলোর অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে নতুন বই প্রকাশ কার্যত স্থবির হয়ে ছিল।
এ অবস্থায় তাদের দাবি উপেক্ষা করে কেন বাংলা অ্যাকাডেমি মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে, সে প্রশ্নও তোলা হয় চিঠিতে।
তবে প্রকাশকরা স্পষ্ট করেছেন, তারা বইমেলা বর্জনের পক্ষে নন। বরং সবার অংশগ্রহণে সফল ও উৎসবমুখর বইমেলা আয়োজনই তাদের প্রত্যাশা। তাই রমজান ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঈদের পর পূর্ণাঙ্গভাবে মেলা আয়োজনের প্রস্তাব দেন তারা।
চিঠিতে আশা প্রকাশ করা হয়, সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত প্রকাশনা শিল্পকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে এবং একুশে বইমেলার ঐতিহ্য অটুট রাখবে।