ঢাকা: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া-কে তৃতীয় দিনের মতো জেরা করা হচ্ছে।
রোববার (১ মার্চ) বেলা পৌনে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ জেরা শুরু হয়। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলার একমাত্র আসামি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের পক্ষে জেরা পরিচালনা করছেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। সঙ্গে রয়েছেন আইনজীবী নাজনীন নাহার ও আবুল হাসানসহ অন্যান্যরা।
প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত আছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী, মঈনুল করিম ও তানভীর হাসান জোহা।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দিনের জেরায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাবেক সেনাপ্রধানকে নানা প্রশ্নের মুখে ফেলেন। প্রথম দিন, অর্থাৎ ১৮ ফেব্রুয়ারিতেও তার জেরা সম্পন্ন হয়। আর গত ৯ ফেব্রুয়ারি তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
সাক্ষ্যগ্রহণকালে ইকবাল করিম ভূঁইয়া জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি সেনাবাহিনী ও র্যাবের কিছু কর্মকাণ্ড এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।
এদিকে, রোববার সকালে কারাগার থেকে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতেই জেরা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এর আগে, গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।
প্রথম অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইল এলাকায় সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ আরও তিনজনকে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা করা হয়।
তৃতীয় অভিযোগেও আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।