ঢাকা: রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের আলোচিত ঘটনায় গ্রেফতার আসামি শাহীনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে শাহীনকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের কাটা হাত, পা ও মাথাসহ দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুই হাতের আঙুলের ছাপের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তার নাম ওবায়দুল্লাহ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের রুমমেট শাহীনকে গ্রেফতার করা হয়।
রোববার (০১ মার্চ) মিন্টো রোডে অবস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ জানান, অনৈতিক প্রস্তাব ও পারস্পরিক ঝগড়ার জেরে ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করেন শাহীন।
পুলিশ জানায়, নিহতের দেহের একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন জানিয়েছে, সেই অংশ আমিনবাজারের সালিপুর ব্রিজ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে উদ্ধার অভিযান চলছে।
ডিসি হারুন-অর-রশীদ জানান, ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করা হয়। রাত ৯টার পর বিভিন্ন স্থানে খণ্ডিত দেহাংশ ফেলে দেওয়া হয়। ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং শাহীন হিরাঝিল হোটেলে চাকরি করতেন। তারা মতিঝিলের কবি জসীম উদ্দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে একসঙ্গে ভাড়া থাকতেন।
পুলিশের বর্ণনায় বলা হয়, রাতে সিগারেট ও খাবার আনা নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। পরে ঘুমানোর সময় কথা বলা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ঝগড়ার মধ্যে শাহীন চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে। এরপর মরদেহ খণ্ডিত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।
পুলিশ জানায়, নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি গেটের পাশে একটি পা, কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় মাথা এবং মতিঝিলের একটি ময়লার কনটেইনারে ড্রামভর্তি দেহাংশ পাওয়া যায়। এছাড়া আমিনবাজার এলাকাতেও আরও অংশ ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছে আসামি।
সাইকেলে করে দেহাংশ ফেলার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন হত্যার দায় স্বীকার করেছে এবং তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরও শাহীন স্বাভাবিকভাবে কর্মস্থলে যাতায়াত করছিল। পরে তাকে হিরাঝিল হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়।
আদেশ অনুযায়ী পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে শাহীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।