কক্সবাজার: কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনায় পাম্পের মালিক নুরুল আলম প্রকাশ এন. আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিস্ফোরণ অধিদফতর।
রোববার (১ মার্চ) রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় বিস্ফোরণ অধিদফতরের চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস. এম. সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে গ্যাস পাম্প পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদফতরের সনদ, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরণ অধিদফতরের লাইসেন্স নেননি মালিক নুরুল আলম। এসব অনিয়ম বিস্ফোরক আইনের আওতায় অপরাধ।
এ ছাড়া, এজাহারে একজন নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন জানান, বিস্ফোরক আইন-১৮৮’র বিধি ৫-এর ৩(ক) ও ৩(খ), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিধিমালা-২০০৪’র বিধি ১১১ ধারা এবং পেনাল কোড-১৮৬০’র ৩০৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে গ্যাস পাম্পের মালিক রামু উপজেলার নুর আহমদ সিকদারের ছেলে নুরুল আলম প্রকাশ এন. আলমকে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কলাতলীর ওই এলপিজি গ্যাস পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুনরায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর আগুন আশপাশের ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনায় অন্তত ৩০টির মতো যানবাহন, ১০টি বাড়িসহ নানা স্থাপনা পুড়ে যায়। আহতদের মধ্যে ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
এ দিকে রোববার (১ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে আগুনে দগ্ধ আবু তাহের (৪২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি তিনদিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি ছিলেন। আবু তাহের কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শ গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে এবং পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।