Tuesday 03 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘কৃষক কার্ড’ কীভাবে পাবেন? আবেদনে যা যা লাগবে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩ মার্চ ২০২৬ ১১:৫০ | আপডেট: ৩ মার্চ ২০২৬ ১২:৩৫

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিদের জন্য টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের আদলে চালু হতে যাচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’। সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য— কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা।

সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভার সচিব নাসিমুল ঘনি জানান, নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের জন্য এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধা পাবেন। ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের কৃষকরাও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হবেন।

বিজ্ঞাপন

কী কী সুবিধা পাবেন কৃষকরা

‘কৃষক কার্ড’ এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং সুবিধা পাবেন। কার্ডটি এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা অনিয়মের সুযোগ না থাকে। কৃষি ভর্তুকি, সার ও বীজ সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছাবে।

এছাড়া কৃষিঋণ গ্রহণ সহজ ও সুসংগঠিত হবে। আবহাওয়া, উৎপাদন পরিস্থিতি ও বাজারদর সম্পর্কিত তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। ভর্তুকির অর্থ সরাসরি কৃষকের ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

কার্ডটি যেভাবে কাজ করবে

কৃষকের জমির পরিমাণ, ফসলের ধরনসহ প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন হবে। ভবিষ্যতে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেও নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে। তথ্য যাচাই শেষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কার্ড বিতরণ করা হবে।

আবেদন করতে যা লাগবে

  • এনআইডির কপি
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল নম্বর
  • জমির দলিল বা ভাগচাষিদের ক্ষেত্রে প্রমাণপত্র
  • ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট নম্বর
  • গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

সরকার জানিয়েছে, কৃষক কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। কার্ডের জন্য কারও সঙ্গে কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং কৃষি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

সারাবাংলা/এফএন/ইআ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর