ঢাকা: অস্ট্রেলিয়ায় জাল ভিসা দিয়ে মানব পাচার চক্রের মূল হোতাসহ চারজনকে রাজধানীর উত্তরা কাওলাবাজার ও যাত্রাবাড়ী শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১১টায় র্যাব-৪ এর সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুব আলম বিষয়টি জানান।
তিনি বলেন, সোমবার (২ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল রাজধানীর উত্তরা কাওলাবাজার ও যাত্রাবাড়ী শনির আখড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মানব পাচার মামলার ৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. তারেকুল ইসলাম (৪৫), মো. মাইনুদ্দিন ভূইয়া (৪৮), মো. নেওয়াজ (৪৫) এবং (৪) আবু হাসান(৪৮)।
লে. কর্নেল মাহবুব আলম বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা টিভিআই ট্রাভেলস নামক ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডায় মানব পাচার করে আসছিল। ভিকটিম মো. শরীফ মোল্লা (২৮) গ্রেফতারকৃত আসামিদের পূর্ব পরিচত এবং তাদের মাধ্যমে এজেন্সির বাকি সদস্যদের সাথে ভিকটিমের পরিচয় হয়। ভিকটিম মো. শরীফ মোল্লা (২৮), ওনার ভাতিজা ওমর ফারুক, চাচাতো ভাই আবুল কালাম এবং ভাগিনা সাজ্জাদ হোসেনকে বিদেশ পাঠানোর জন্য গত ১২ মে এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে আসামি মো. তারেকুল ইসলামের (৪৫) পল্লবী থানাধীন বাসা ও অফিসে গিয়ে ৯৪ লাখ টাকা, পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন।
তিনি বলেন, আসামিরা জানায় কয়েক দিনের মধ্যে তাদের অস্ট্রেলিয়ায় পাঠাবে। অনেকদিন অতিবাহিত হলেও আসামিরা তাদের বিদেশ পাঠাতে না পারায় তারা আসামিদের অফিসে বারংবার গিয়ে তাগাদ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে টিভিআই ট্রাভেলস কর্তৃপক্ষ ভিকটিমদের ভিসা ও টিকিট ইস্যু করে কিন্তু ভিকটিমরা অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের মাধ্যমে জানতে পারে যে, ভিসা ও টিকিট দুইটাই ভুয়া। এমন কী টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললে বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনায় ভিকটিম পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। র্যাব-৪ সোমবার (২ মার্চ) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান সনাক্ত করে উত্তরা কাওলাবাজার ও যাত্রাবাড়ী শনির আখড়া এলাকায় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল হোতা তারেকুল ইসলামসহ চারজনকে গ্রেফতার করে।
র্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে অনেক বাংলাদেশীদের ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডায় প্রেরণ করার নামে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় এনআই অ্যাক্ট এর গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।