কাগজে কলমে কিংবা টুর্নামেন্টের ইতিহাস, দুই দলের শক্তিমত্তার পার্থক্যটা ছিল আকাশ পাতাল। ৯ বারের এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। দারুণ এক লড়াই শেষে ২-০ গোলে হেরে গেছেন ঋতুপর্ণারা। তবে ম্যাচ হারলেও দলের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলার।
সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে ৪৪ মিনিট পর্যন্ত চীনকে আটকে রেখেছিল বাংলাদেশ। এরপর ২ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করেন তারা। ম্যাচের বাকি সময়টায় আর গোল হজম করেনি বাংলাদেশ। গোলের সুযোগ এলেও বল জালে জড়াতে পারেননি ঋতুপর্ণারা।
ম্যাচের পর বাটলার বলেন, ‘আমি চীনকে অভিনন্দন জানাতে চাই। আমার মনে হয় তারা এশিয়ার অন্যতম সেরা দল, সম্ভবত এশিয়ার সেরা দলই, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং দুর্ভাগ্যবশত আমাদের হারানোর জন্য তাদের অবশ্যই অভিনন্দন। আমার মনে হয়েছিল যে, তারা হয়তো খেলাটা একপেশে করে ফেলবে, কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। ম্যাচের আগে মেয়েদের বলেছিলাম নিজেদের সেরাটা দিতে। তোমরা যা দিতে পারবে, তা দাও; নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলো। তোমরা যেমন, তেমনই থাকো এবং আমরা যা, সেটাই দেখাও।’
ভাগ্যের কারণে গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। বাটলার অবশ্য বললেন, ভাগ্যে বিশ্বাসী নন তিনি, ‘খেলায় সুযোগ আসে, সুযোগ যায়। আমি এমন অনেক ম্যাচ খেলেছি, যেখানে আপনি ভাগ্যের জোরে বেঁচে যান, আপনি নিজের ভাগ্য নিজেই তৈরি করেন এবং আমি এমনি-এমনি ভাগ্যবান হওয়ায় বিশ্বাস করি না। আপনাকে নিজের ভাগ্য নিজেই তৈরি করতে হবে। তাই, আমরা এর চেয়ে খারাপ খেলব এবং জিতব। আপনারা জানেন, আমরা আরও ভালো দলের সাথে খেলব এবং হয়তো বড় ব্যবধানে হারব। এটাই বাস্তবতা। তবে আমি মনে করি, আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মেয়েরা হাল ছাড়েনি।’
নিজেদের খেলার ধরনটা বদলাতে চান না বাটলার, ‘দ্বিতীয়ার্ধে আমরা কৌশলের পরিবর্তন করেছি এবং আমার মনে হয়, মেয়েরা আরও বেশি ধীরস্থিরতা দেখিয়েছে। মেয়েদের খেলায় আমি সত্যিই আনন্দিত এবং ইতিবাচক। তবে আমাদের এখন এটি কাজে লাগাতে হবে। আমাদের সেই গতি তৈরি করতে হবে এবং উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের দিকে তাকাতে হবে… কোরিয়ার বিপক্ষে আমরা হয়তো বড় ব্যবধানে হারতে পারি। কে জানে? তবে আমরা বদলাব না, আমরা একইভাবে খেলা চালিয়ে যাব।’
আগামী শুক্রবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।