ঢাকা: জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ভুক্তভোগী ইকবাল চৌধুরীর অবশিষ্ট সাক্ষ্য আজ গ্রহণ করবে ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
এর আগে গত ২ মার্চ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে নিজের গুমজীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ৭১ বছর বয়সী ইকবাল চৌধুরী। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ বোধ করলে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল তার সাক্ষ্যগ্রহণ অসমাপ্ত রেখে আজকের দিন পর্যন্ত মুলতবি করেন।
সেদিন দেওয়া জবানবন্দিতে ইকবাল চৌধুরী জানান, ২০১৮ সালের ৭ মে রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকার বাসা থেকে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাকে তুলে নিয়ে যান। নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তারা তাকে একটি মাইক্রোবাসে তোলেন। পরে তার চোখ বেঁধে মাথায় টুপি পরিয়ে হাতকড়া লাগানো হয়। যে কক্ষে তাকে রাখা হয়েছিল, সেখানে নিজেকে জীবন্ত কবরে বন্দি মনে হয়েছিল বলে তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান। অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে কাটাতে তিনি আল্লাহর কাছে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করতেন বলেও উল্লেখ করেন।
মামলার ১৩ আসামির মধ্যে বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
পলাতক ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন সময়ে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
এছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।
গুমের এ ঘটনায় গত বছরের ৮ অক্টোবর ১৩ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। পরে ১৮ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।