Thursday 05 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নীতিনির্ধারণে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান তাসনিম জারার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৫ মার্চ ২০২৬ ১৪:০৪

তাসনিম জারা।

ঢাকা: রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নীতিনির্ধারণী বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের সাবেক স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে গুলশানে অবস্থিত লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে একশন এইড আয়োজিত, বিশ্ব নারী দিবস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে তাসনিম জারা বলেন, আমরা প্রায়ই সংসদে কত শতাংশ নারী আছেন সেই সংখ্যা বা মেট্রিক নিয়ে মেতে থাকি, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের হাতে কতটুকু ক্ষমতা বা ‘পাওয়ার’ আছে, তা নিয়ে পর্যাপ্ত আলাপ হয় না। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র অংশগ্রহণই ক্ষমতায়ন নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব বিস্তার করতে পারাটাই প্রকৃত রাজনৈতিক অধিকার।

বিজ্ঞাপন

সংরক্ষিত নারী আসন প্রসঙ্গে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় প্রার্থীরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হয়ে দলের মনোনয়নের ওপর নির্ভরশীল থাকেন। ফলে তাদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা সংকুচিত হয়ে পড়ে। তৃণমূল পর্যায়ে অসংখ্য নারী কর্মী সক্রিয় থাকলেও শীর্ষ পদের ক্ষেত্রে অদৃশ্য এক পুরুষতান্ত্রিক দেওয়াল বা নেটওয়ার্কের কারণে নারীরা পিছিয়ে পড়ছেন।

নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতিতে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে যারা নিয়ম মেনে নির্বাচনি প্রচার চালাতে চান, তাদের জন্য পরিবেশ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। কারণ, যারা নিয়ম লঙ্ঘন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগ যদি স্বাধীনভাবে নিয়ম প্রয়োগ না করে, তবে সৎ ও নতুন প্রজন্মের প্রার্থীদের জন্য রাজনীতিতে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

আলোচনায় তিনি বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ‘প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডার-বেসড ভায়োলেন্স’ বা অনলাইন হ্যারাসমেন্টের কথা তুলে ধরেন। তিনি একে ‘অ্যান্টিসিপেটরি সাইলেন্সিং’ বা নারীদের রাজনীতিতে আসার আগেই থামিয়ে দেওয়ার একটি সূক্ষ্ম কৌশল হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, অনলাইন বুলিংয়ের মাধ্যমে নারী নেতৃত্বকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা দেখে নতুন প্রজন্মের মেধাবী মেয়েরা রাজনীতিতে আসতে ভয় পাচ্ছে।

পরিশেষে তাসনিম জারা বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনতে হলে কেবল অংশগ্রহণ নয়, বরং নারীদের জন্য নিরাপদ কাজের পরিবেশ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের কার্যকর ও শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ও রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে শক্তিশালী সাপোর্ট মেকানিজম এবং অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর