ঢাকা: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ ভৌগলিকভাবে দূরদেশে হলেও নাগরিকের নিরাপত্তা, আর্থিক ও সামাজিক অভিঘাত বিবেচনায় বাংলাদেশও এই যুদ্ধের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হতে যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় সরকারের পরিকল্পনা, উদ্যোগ ও আয়োজন স্পষ্ট না।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজী আতাউর বলেন, সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৫ দশমিক ৪০ শতাংশ এসেছে জিসিসিভুক্ত মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশগুলো থেকে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে অনেক দেশে আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ফ্লাইটও স্থগিত করা হয়েছে। এতে ভ্রমণ এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। কিছু এলাকায় হামলার ঘটনায় বিদেশি শ্রমিকদের হতাহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে, যা প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে ইরানের হামলায় বাহরাইনে একজন এবং কুয়েতে দুইজন প্রবাসী বাংলাদেশি মারা গেছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৯ জন বাংলাদেশি। এর সাথে জ্বালানীর মূল্যবৃদ্ধিসহ বহুমাত্রিক আর্থিক অভিঘাতের শিকার হতে হবে বাংলাদেশকে।
মাওলানা আতাউর বলেন, ভৌগলিকভাবে যুদ্ধ দূরদেশে হলেও নাগরিকের নিরাপত্তা, আর্থিক ও সামাজিক অভিঘাত বিবেচনায় বাংলাদেশও এই যুদ্ধের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হতে যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় সরকারের পরিকল্পনা, উদ্যোগ ও আয়োজন স্পষ্ট না। উদ্বিগ্ন প্রবাসী ও তাদের পরিবারকে সরকার আশ্বস্ত করতে পারছে না। আমরা দাবি করব, দ্রুততার সাথে কার্যকর উদ্যোগ নিন। সবার আগে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দিতে হবে। একই সাথে দেশের অর্থনীতি নিয়ে গুরুতর ভাবনা শুরু করতে হবে।