Thursday 05 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রশাসক প্রত্যাহার হবে ধাপে ধাপে, নগদে হঠাৎ বোর্ড পরিবর্তন নয়: গভর্নর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ মার্চ ২০২৬ ১৬:০০ | আপডেট: ৫ মার্চ ২০২৬ ১৬:২৭

-ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নগদের ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন হুট করে বা রাতারাতি করা হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিযুক্ত প্রশাসক প্রত্যাহার ও নতুন ব্যবস্থাপনার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এবং ‘মসৃণভাবে’ সম্পন্ন করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, বুধবার (৪ মার্চ) নগদের প্রশাসক দলের সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর এ আশ্বাস দেন। বৈঠকে প্রশাসক দল প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান আর্থিক ও প্রশাসনিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে।

বর্তমানে নগদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মো. মোতাসেম বিল্লাহ।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বিশেষ পরিদর্শনে নগদের কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির আগের বোর্ডের সদস্যরা বর্তমানে অনুপস্থিত রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নগদ এখনও পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স পায়নি এবং অন্তর্বর্তীকালীন লাইসেন্সের আওতায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি গ্রাহকের লেনদেন জড়িত থাকায় গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।

মুখপাত্রের অভিযোগ, ডাক বিভাগের বাইরে যেসব ব্যক্তি নগদের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমান বাজারমূল্যায়নে নগদের নিট সম্পদ (নেট অ্যাসেট) আরও নেতিবাচক হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এক আলোচনায় নগদকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নগদে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে চিঠি দেন।

ওই সময় গভর্নর মনসুর জানান, বিশ্বাসযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগকারী পাওয়া গেলে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমান সরকারের আমলে গতকাল নগদের প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে নগদের কার্যক্রমে একাধিক আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তে দেখা যায়, কাল্পনিক পরিবেশক ও এজেন্ট তৈরি করে আর্থিক জালিয়াতি করা হয়েছে। পাশাপাশি সমপরিমাণ নগদ অর্থ জমা না রেখেই অতিরিক্ত ই-মানি ইস্যু করা হয়েছে।

এই পরিদর্শনে মোট ২ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার আর্থিক গরমিল শনাক্ত করা হয়।

প্রশাসক দলের তদন্তে আরও জানা যায়, অনুমোদন ছাড়াই ৪১টি পরিবেশক হিসাব খুলে প্রায় ১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবের মাধ্যমে সরকারি ভাতা বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া গত বছরের জুনে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, প্রকৃত অর্থ জমা ছাড়াই অন্তত ৬৪৫ কোটি টাকার অতিরিক্ত ই-মানি ইস্যু করা হয়েছে, যার ফলে ডাক বিভাগ তথা সরকারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী দেশে রাষ্ট্রের পক্ষে টাকা ইস্যুর একমাত্র ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর ন্যস্ত।

এদিকে নগদের পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিট সম্পন্ন করতে আন্তর্জাতিক অডিট প্রতিষ্ঠান কেপিএমজিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শক দল যে ধরনের অনিয়মের তথ্য পেয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটির অডিটেও একই ধরনের বিষয় উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নগদের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ আর অফিসে ফেরেননি। একই সময় নির্বাহী পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ (এলিট), মারুফুল ইসলাম (ঝলক), উপপ্রধান মার্কেটিং কর্মকর্তা খন্দকার মোহাম্মদ সোলায়মান (সোলায়মান সুখন) এবং মানবসম্পদ কর্মকর্তা অনিক বড়ুয়াও অনুপস্থিত ছিলেন।

পরে ২১ আগস্ট প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়া কয়েকজন ব্যক্তি নগদ লিমিটেডের মালিকানার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নগদের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ইতোমধ্যে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর