ঢাকা: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সব অভিযোগ ও তথ্য সামনে আসছে, তা প্রমাণ করে এই নির্বাচন ছিল পরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা একটি নির্বাচন।
তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ইসলামী দলগুলোকে ইঙ্গিত করে গণমাধ্যমে স্বীকার করেছেন যে, তারা এ ধরনের কোনো দলকে মূলধারায় আসতে দেননি। এই বক্তব্য কার্যত নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি বৈঠকী সিদ্ধান্তের স্বীকারোক্তি।
শনিবার (৭ মার্চ) পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যে এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরে বসেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে এবং জনগণের রায়কে পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। সুতরাং নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে জড়িত সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে।
সভায় মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকার গণভোটের মাধ্যমে জনগণের যে রায় পেয়েছে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও দৃশ্যত অনীহা দেখাচ্ছে। জনগণ যখন গণভোটে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়েছে, তখন তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে আদালতের দিকে দায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি গণভোট বাতিলের লক্ষ্যে হাইকোর্টে রিট দায়েরের ঘটনাও জনমতের প্রতি অবজ্ঞা এবং ’২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। জনগণের রায়কে সম্মান না করে আইনি জটিলতার আড়ালে তা বিলম্বিত বা বাতিল করার চেষ্টা গোটা জাতিকে রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য করবে।
তিনি ঘোষণা করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবীতে আগামী ২৪ এপ্রিল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি গণসমাবেশের আয়োজন করবে।
পতিত শেখ হাসিনার পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে ও নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়েছে—বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে তাদের নাম প্রকাশ করে জাতির সামনে আনতে হবে। অন্যথায় দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।
দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের পরিচালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমীর মুফতি সাঈদ নূর, মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল প্রমুখ।