ঢাকা: অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (৮ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ আসামিপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আনিস আলমগীরের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি জানান, তার মক্কেলের জামিন চেয়ে আদালতে শুনানি করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে তারা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন—উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে, নাকি পুনরায় নিম্ন আদালতেই জামিন আবেদন করা হবে।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান গত ২৫ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। পরে ২৮ জানুয়ারি আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে তার ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। তবে বৈধ আয়ের উৎস থেকে তার মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ থেকে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ হিসেবে তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া গেছে, যা মোট সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। দুদকের মতে, এই অর্থ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ।