Monday 09 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিজিএমইএ’র বৈঠক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৯ মার্চ ২০২৬ ০৯:২৫

ঢাকা: বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিজিএমইএ’র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন লেবার অ্যাটাশে লীনা খান, এগ্রি অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট, কমার্শিয়াল অ্যাটাশে পল ফ্রস্ট, পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক অফিসার শ্রীনি সীতারাম এবং শ্রম বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সাইফুজ্জামান মেহরাব।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগ, শ্রম আইন সংস্কার এবং পোশাক খাতের বাজার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।

বৈঠকে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রফতানিতে শুল্ক ছাড়ের একটি কার্যকর মেকানিজম সম্পর্কে স্পষ্টীকরণের অনুরোধ জানানো হয়। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত পোশাকের ক্ষেত্রে শুল্ক সুবিধা দিলে দুই দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

এ বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, বিষয়টি বর্তমানে ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের (ইউএসটিআর) কার্যালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক এবং বাংলাদেশই প্রথম দেশ হিসেবে এ ধরনের বিশেষ সুযোগ পেয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের তুলা রপ্তানি আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান যুক্তরাষ্ট্রে ঘন ঘন ট্যারিফ পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তার বিষয়টি রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে শিগগিরই বাণিজ্যিক নীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে মার্কিন বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি স্বল্পমেয়াদে এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে মার্কিন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা হলে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা এই খাতে বিনিয়োগে আরও আগ্রহী হবে।

বৈঠকে শ্রম আইন ও প্রস্তাবিত নতুন শ্রম অধ্যাদেশ নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে শ্রম খাতের সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিজিএমইএ সভাপতি জানান, প্রস্তাবিত শ্রম অধ্যাদেশে ১৪৫টি নির্দিষ্ট পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা চলছে এবং কয়েকটি বিষয়ে আরও স্পষ্টতা প্রয়োজন।

পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করতে ভিসা বন্ড শিথিল করা এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিসা সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও বৈঠকে উত্থাপন করা হয়।

এ সময় বিজিএমইএ পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের অধীনে বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক ‘লিড’ সনদপ্রাপ্ত তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে। এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করা হয়।

বৈঠকে বিজিএমইএ ও মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর