Monday 09 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কুমিল্লায় সূর্যমুখীর রঙে রঙিন কৃষকজীবন, বাড়ছে আবাদ

মো. রাসেল, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৯ মার্চ ২০২৬ ১৩:৩১

সূর্যমুখী ফুলের ক্ষেত। ছবি: সারাবাংলা

কুমিল্লা: কুমিল্লা এখন রঙিন হয়ে উঠেছে সোনালি সূর্যমুখীর বাহারে। জেলাজুড়ে দিন দিন বেড়ে চলেছে এই ফুলের আবাদ। সঙ্গে বাড়ছে কৃষকের মুখের হাসি ও দর্শনার্থীদের পদচারণা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় সূর্যমুখী চাষ এখন কৃষকদের কাছে আকর্ষণীয় ফসল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। পতিত জমিও আর পড়ে নেই, সাজছে টানা সারি সারি হলুদ রঙের সূর্যমুখী ফুলে ।

বসন্তের মিষ্টি হাওয়ায় দুলতে থাকা বিশাল সূর্যমুখীর মাঠ শুধু কৃষকের অর্থনীতিকেই সমৃদ্ধ করছে না, বরং এলাকার মানুষ, আশপাশের এলাকা থেকে আসা পর্যটক, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে সৌন্দর্যপ্রেমীদেরও টেনে আনছে প্রতিদিন। কেউ আসছেন ছবি তুলতে, কেউ ঘুরে দেখতে, আবার কেউ জানতে চাইছেন কীভাবে এত কম খরচে কৃষকের এমন স্বপ্নফুল ফোটে।

বিজ্ঞাপন

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কুমিল্লা জেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে, যা গত বছরে ছিলো ৩৫ হেক্টর। গত বছরের চেয়ে এবার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়েছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বীজ, সার, পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের, যাতে আগ্রহীরা নতুন করে চাষে নামতে পারেন।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘সূর্যমুখী খুবই লাভজনক ও সম্ভাবনাময় একটি ফসল। কম পানি লাগে, সহজে চাষ হয় এবং ফলনও ভালো। তাই কৃষকেরা নতুন করে আবাদ বাড়াতে আগ্রহী হচ্ছেন। ভবিষ্যতে কুমিল্লায় এর উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী। আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ সব রকম সহযোগিতা দিচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি আগামীতে কুমিল্লায় সূর্যমুখীর চাষ আরও অনেক বাড়বে।’

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিমরা গ্রামের সূর্যমুখী ফুল চাষি মো. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সূর্যমুখী চাষে খরচ তুলনামূলকভাবে কম। বীজ থেকে তেল উৎপাদন করে যেমন লাভ পাওয়া যায়, তেমনি ক্ষেত দেখতে আসা লোকজন থেকে বাড়তি উপার্জনের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। কেউ কেউ প্রবেশমূল্য রাখছেন, কেউ আবার দর্শনার্থীদের ছবি তোলার সুযোগ করে দিচ্ছেন নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে। তিনি আরও জানান, অনেক দর্শনার্থী ফুল নষ্টও করে ফেলে। এগুলো দেখাশোনা করার জন্য আলাদাভাবে লোকবল রাখতে হয়।

ছবি: সারাবাংলা

স্থানীয় কৃষক বাবুল মিয়া জানান, আগে জমিটা পতিত ছিল। এবার প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী লাগিয়েছি। ফলনও ভালো হয়েছে, আবার মানুষ আসায় অতিরিক্ত কিছু আয়ও হচ্ছে, ভালোই লাগছে।

এদিকে দর্শনার্থীরা বলছেন, এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখে তারা মুগ্ধ। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে যে প্রশান্তি পাওয়া যায়, তা শহরের ব্যস্ত জীবনে পাওয়া বিরল।

কুমিল্লা মহানগরীর মোগলটুলির বাসিন্দা ও মুন্সী আর্ট প্রেসের মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম মুন্সী বলেন, শহরের কোলাহলের একঘেয়ে জীবন যখন দূর্বিষহ মনে হয় ঠিক তখনি এরকম প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যি মন ভালো করে দেয়। এ সময়টায় আমি কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই ঘুরতে যাই সূর্যমুখী ক্ষেতে। এতো ভালো লাগে যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবোনা।

শুধু চাষাবাদ নয়, পর্যটন শিল্পের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে সূর্যমুখীর এ আবাদ। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ মনে করছে, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় কুমিল্লার সূর্যমুখী ক্ষেতগুলো হতে পারে কৃষি পর্যটনের নতুন কেন্দ্রবিন্দু।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর