ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশে ডিজিটাল ও ইলেকট্রনিক লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার (৯ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ঈদুল ফিতরের ছুটিকালীন সময়ে গ্রাহকদের আর্থিক লেনদেন যাতে কোনোভাবে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য এটিএম, পয়েন্ট অব সেল, কিউআর কোড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন ই-পেমেন্ট গেটওয়ে এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ঈদের ছুটির সময় সব এটিএম বুথ সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে। কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে বুথগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এটিএম বুথ নিয়মিত পরিদর্শনের ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে।
ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পয়েন্ট অব সেল এবং কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনও সার্বক্ষণিক সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জালিয়াতি প্রতিরোধে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের সচেতন করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অনলাইন ই-পেমেন্ট গেটওয়ের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করতে কার্ড নট প্রেজেন্ট ধরনের লেনদেনে বাধ্যতামূলকভাবে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এছাড়া ‘৮৫’ রেসপন্স কোডযুক্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে সেটেলমেন্ট রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণকারী ব্যাংককে নিজ উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে উপকারভোগীর হিসাবে অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী ব্যাংক ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এজেন্ট পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা সহজে টাকা উত্তোলন ও লেনদেন করতে পারেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, সব ধরনের ইলেকট্রনিক লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএস এলার্ট পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়ে গ্রাহকদের নিরাপদ লেনদেনে উৎসাহিত করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া ঈদের সময় গ্রাহকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন সেবা চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এ সংক্রান্ত পূর্বে জারি করা সব নির্দেশনাও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।