কক্সবাজার: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অবৈধ গরু পাচার ঠেকাতে গিয়ে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে চোরাকারবারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় বিজিবির গুলিতে এক চোরাকারবারী আহত হয়েছেন। এছাড়া হামলায় দুই বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন।
সোমবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার ফুলতলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা সীমান্ত পিলার ৪৮ থেকে প্রায় ৪০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রেইক্যাছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত বিজিবি সদস্যরা হলেন শরীফ (৩৪) ও রাজু (৩৫)। গুলিবিদ্ধ চোরাকারবারীর নাম মোহাম্মদ ইসমাইল (৪০)। তিনি কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ডাক্তারকাটা এলাকার মোহাম্মদ ইদ্রিসের ছেলে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সকালে সীমান্তের ওই পয়েন্ট দিয়ে মায়ানমার থেকে অবৈধভাবে গরু বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে ফুলতলী বিওপির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গবাদিপশু জব্দের চেষ্টা করে। এ সময় গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ও চোরাকারবারীরা বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে চোরাকারবারীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিজিবি টহল দলের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং আত্মরক্ষার্থে বিজিবি এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে গুলিটি মোহাম্মদ ইসমাইলের তলপেটে লাগে। পরে চোরাকারবারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ ইসমাইলকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত দুই বিজিবি সদস্যও কক্সবাজারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গুলিবিদ্ধ ইসমাইলের স্বজন মোহাম্মদ আবদুল মালেক জানান, তিনি চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার অবস্থা এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়।
এ বিষয়ে ১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস.এম কফিল উদ্দিন কায়েস বলেন, চোরাচালানবিরোধী অভিযানের সময় প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি বিদেশি গরুর একটি চালান আটকানোর চেষ্টা করা হলে চোরাকারবারীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে দুই বিজিবি সদস্য আহত হন।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়া হয়। পরে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিজিবির এ কর্মকর্তা আরও জানান, বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।