মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বাজার তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ১৭ ডলার বা প্রায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪ দশমিক ৭৯ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৮১ ডলার বা প্রায় ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৯৬ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে উভয় ধরনের তেলের দাম একসময় প্রায় ১১ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল, যদিও পরে কিছুটা পরিবর্তন হয়।
এর আগে সোমবার (৯ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবসহ কয়েকটি তেল উৎপাদনকারী দেশের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ২০২২ সালের মাঝামাঝির পর সর্বোচ্চ।
তবে পরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপের খবর প্রকাশের পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। ক্রেমলিনের এক কর্মকর্তা জানান, ওই আলোচনায় ইরান যুদ্ধ দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন পুতিন।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে এবং পরিস্থিতি তার পূর্বের চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের অনুমানের চেয়েও দ্রুত এগোচ্ছে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা তারাই নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও রফতানি করতে দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেছে তারা।
এদিকে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং জরুরি তেল মজুত ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।