Wednesday 11 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সিভিল অ্যাসেট রিকভারি কার্যক্রমে অগ্রগতি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ মার্চ ২০২৬ ১৪:৪১

ঢাকা: বিদেশে পাচার হওয়া ঋণের অর্থ পুনরুদ্ধারে সিভিল অ্যাসেট রিকভারি কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০ শতাংশ নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) সই করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ ) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স-এর চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে “আপডেট অফ সিভিল অ্যাসেট রিকভারি স্টেটাস” শীর্ষক এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর প্রধান ও উপপ্রধান, বিএফআইইউর পরিচালকসহ ঋণের অর্থ বিদেশে পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ফোকাল পয়েন্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সভায় গভর্নরের পরামর্শক এবং অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্সের সদস্য ফারহানুল গনি চৌধুরী সিভিল অ্যাসেট রিকভারি কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন।

সভায় জানানো হয়, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ সরকার দুটি পদ্ধতিতে কাজ করছে—ক্রিমিনাল ও সিভিল প্রক্রিয়া। এর মধ্যে ক্রিমিনাল প্রক্রিয়া সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে ঋণের অর্থ বিদেশে পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠান ও লিটিগেশন ফান্ডার নিয়োগের মাধ্যমে সিভিল প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

গোয়েন্দা তথ্য ও খেলাপি ঋণের পরিমাণের ভিত্তিতে সিভিল প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে ছয়টি গ্রুপ নির্বাচন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের লক্ষ্যে ১০টি ব্যাংক ইতোমধ্যে ৯টি আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট ৩৬টি এনডিএ স্বাক্ষর করেছে। তবে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখনো এ প্রক্রিয়ায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, সরকারি ব্যাংকগুলো দ্রুত এনডিএ স্বাক্ষর সম্পন্ন করে কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

এদিকে কিছু ব্যাংক ইতোমধ্যে খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত তথ্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরবরাহ শুরু করেছে, যাতে তারা যথাযথ পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করতে পারে।

প্রথম ধাপ শেষ হলে বিদেশে পাচার হওয়া ঋণের অর্থ সংশ্লিষ্ট ১০০টিরও বেশি মামলা নিয়ে দ্বিতীয় ধাপ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার করা। তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ মূলত সাধারণ আমানতকারীদের টাকা, তাই তা দ্রুত উদ্ধার করে আমানতকারীদের ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি।

গভর্নর আরও বলেন, এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। যদি কোনো রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সরাসরি গভর্নরের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তিনি উৎসাহিত করেন এবং এ ধরনের পরিস্থিতি নিজেই মোকাবিলা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

যেহেতু সিভিল প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলোর ভূমিকা কেন্দ্রীয়, তাই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে আমানতকারীদের অর্থ পুনরুদ্ধারে অগ্রণী ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন গভর্নর।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর