ঢাকা: যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে তিন কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিসহ চারটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ২৬ হাজার ৮৪০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এছাড়া তিস্তা নদীর উপর ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ একটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের তৃতীয় সংশোধিত প্রকল্পের পূর্ত কাজের একটি ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় বাড়ছে ৭৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
বুধবার (১১ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট থেকে তিনটি এলএনজি কার্গো (চলতি বছরের ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতি এমএমবিটিইউ ২১.৫৮ ডলার দরে এক কার্গো এলএনজি কার্গো সরবরাহ করবে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘টোটাল এনার্জি গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার ণিমিটেড’। এতে ব্যয় হবে ৯০৭ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
অপর দুটি কার্গো কেনা হবে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘পস্কো ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন’ থেকে। প্রতি এমএমবিটিইউ ২০.৭৬ ডলার দরে দুটি কার্গোতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৭৪৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে স্থানীয় পর্যায়ে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ৮০ লাখ লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল ক্রয়ের দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে ৫টি লটে চারটি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি লিটার রাইস ব্রান তেল সরবরাহ করবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৭০ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ২টি লট এবং ‘মজুমদার ব্রান অয়েল মিলস লিমিটেড’, ‘তামিম এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ ও ‘গ্রীণ অয়েল অ্যান্ড পোল্ট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রি’ ১টি করে লট সরবরাহ করবে।
অপর প্রস্তাবে চারটি লটে চারটি প্রতিষ্ঠান ৮০ লিটার রাইস ব্রান তেল সরবরাহ করবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৩৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠান চারটি হচ্ছে- ‘মজুমদার ব্রান অয়েল মিলস লিমিটেড’, ‘তামিম এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’, ‘গ্রীণ অয়েল অ্যান্ড পোল্ট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রি’ ও ‘প্রধান অয়েল মিলস লিমিটেড’।
এছাড়া ‘ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ’ (ইজিসিবি) কর্তৃক নির্মিত গ্যাসভিত্তিক ‘সিদ্ধিরগঞ্জ ২x১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি কিলোওয়াট/ঘন্টা ট্যারিফ হার ৩.৩৬৬৪ ডলার হিসাবে এতে ব্যয় হবে ২৩ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা।