এশিয়া অঞ্চল থেকে দাপটের সঙ্গে বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল পর্বে পা রেখেছিলেন তারা। তবে শেষ পর্যন্ত আগামী জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপে ইরান খেলবে কিনা, সেটাই এখন মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যেই ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ দোনিয়ামালি জানিয়েছেন, আয়াতুল্লাহ খামেনিক হত্যার পর কিছুতেই বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেন না তারা।
গত দুই সপ্তাহ ধরেই ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানে চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। এতে দুই পক্ষের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এর প্রভাব পড়েছে ইরানের ক্রীড়াজগতেও।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানাবেন, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এমন বক্তব্যের পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিশ্বকাপে ‘না খেলার’ ঘোষণা দেন ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী দোনিয়ামালি।
দোনিয়ামালি জানান, ‘এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে, সেটা বিবেচনা করে কোনো অবস্থাতেই আমরা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারি না। ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া বিদ্বেষপূর্ণ পদক্ষেপের কারণে আমরা আট বা নয় মাসের মধ্যে দুটি যুদ্ধ লড়তে বাধ্য হয়েছি এবং আমাদের হাজার হাজার নাগরিক নিহত হয়েছে। তাই এই পরিস্থিতিতে আমাদের (বিশ্বকাপে) অংশগ্রহণের কোনো সম্ভাবনা নেই।’
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ। ইরানের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচই হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান সেখানে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে কি না অথবা যুক্তরাষ্ট্রের মাটি তাদের জন্য নিরাপদ থাকবে কি না- এমন অনেক প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসে সংঘাত শুরুর পর থেকেই।
শেষ পর্যন্ত ইরান যদি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে তাদের পরিবর্তে কোন দেশ সুযোগ পাবে, সেটার অপেক্ষাতেই আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।