Thursday 12 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি
পাঁচ ইসলামী ব্যাংকে চাকরিচ্যুতিদের পুনর্বহালের দাবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ মার্চ ২০২৬ ১৫:০৮ | আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ১৬:৫৪

ঢাকা: দেশের পাঁচটি ইসলামী ধারার ব্যাংক থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ তুলে তাদের পুনর্বহালের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বরাবর দেওয়া ওই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-তে কর্মরত নির্দিষ্ট অঞ্চলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘ ৭–৮ বছর ধরে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাবিত একটি গোষ্ঠীর মদদে বদলি, প্রশাসনিক হয়রানি, আইডি নিষ্ক্রিয় করা, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় গণহারে চাকরিচ্যুত করা হয়, যার ফলে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, ৫ আগস্টের পর মব সৃষ্টির মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পদোন্নতি গ্রহণ করে এবং অবসরে যাওয়া কিছু ব্যাংকারকে আবার শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় ফিরিয়ে আনা হয়। একই সঙ্গে তৎকালীন ব্যবস্থাপনার অনেক সদস্যকে পদত্যাগ বা চাকরিচ্যুত করতে বাধ্য করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ম বহির্ভূতভাবে বৈধ বোর্ড ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ও অদক্ষ বোর্ড গঠন করেছে, যারা এসব অনিয়মকে অনুমোদন দিয়েছে।

এছাড়া ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালা উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট এলাকার ট্যাগ দিয়ে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দুর্গম ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বদলি করা হয়েছে। যোগ্যতা যাচাই ছাড়া অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে এবং “দক্ষতা মূল্যায়ন” পরীক্ষার নামে অভিজ্ঞ কর্মীদের ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি করা হয়েছে। ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় এবং একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী না হওয়ায় অনেককে মিথ্যা অভিযোগে জড়িয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের মতো মনে হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

স্মারকলিপিতে গভর্নরের কাছে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো—
৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দ্রুত স্বপদে পুনর্বহাল করা; সকল বিতর্কিত পদোন্নতি ও নিয়োগ বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন;
ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা;
“দক্ষতা মূল্যায়ন” প্রক্রিয়াকে চাকরিচ্যুতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা;
বিতর্কিত বোর্ড ও ম্যানেজমেন্ট বাতিল করে দক্ষ ও পেশাদার বোর্ড গঠন;
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, সুশাসন ও কর্মীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা;

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই খাতে বৈষম্য ও রাজনৈতিক হয়রানি অব্যাহত থাকলে তা শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবন নয়, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর