ঢাকা: জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
রোববার (১৫ মার্চ) বিচারপতি এস এম এমদাদুল হকের চেম্বার আদালতে এ সংক্রান্ত চারটি আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করে এসব মামলায় তাকে জামিন দেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসরুল হক চৌধুরী, সারা হোসেন ও সাঈদ আহমেদ রাজা এবং আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ।
৮ মার্চের ওই আদেশের পর হাইকোর্ট থেকে তিনি আরও একটি মামলায় জামিন পান। তবে নিম্ন আদালতে আরেক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করায় আপাতত তার মুক্তি হচ্ছে না।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা করা হয়েছে। এ অভিযোগে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন মামলা করেন। একই অভিযোগে ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া। একই দিনে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা।
এ ছাড়া প্লট জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত ৪ আগস্ট তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে।
এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর খায়রুল হক হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় তার জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন।
এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার দায়িত্ব কার্যকর হয়। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। পরে তিনি তিন দফা বাংলাদেশ আইন কমিশন-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।