ঢাকা: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের নামে নিজের কিছু কর্মকর্তার ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিলতার অভিযোগ উঠেছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের ইন্ধনে একটি সিন্ডিকেট নতুন টাকার কেনাবেচার দোকানে সরবরাহ করে আসছে। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সে সূত্র ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করছে। তদন্তে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় অন্তত চারজন কর্মচারীকে অন্যত্র বদলি করেছে। আর দুইজনকে কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তবে বিশেষ করে কারেন্সি ও ইস্যু ক্যাশ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নতুন নোটের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ স্বত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রগুলো বলছে, যারা নতুন টাকার অবৈধ সরবরাহের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত সম্প্রতি সারাবাংলা.নেটসহ একাধিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক থেকে শুরু করে ভল্ট দারোয়ান ও আউটসোর্সিং কর্মচারীদের নতুন নোট বিতরণে অনিয়ম ও বটতলায় দালালদের কাছে বিক্রি করা নিয়ে সংবাদ ছাপা হয়। এমনকি গুলিস্তানে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অভিযান চালিয়ে একাধিক নতুন নোটের ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারও করা হয়। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় হলেও ‘কানে তুলা’ দিয়ে আছে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশাসন। কর্মকর্তাদের বাঁচানোর জন্য তারা এখন ‘পরিস্থিতি ঠান্ডা’ হওয়ার জন্য দিন গুনছে ।
এদিকে ঈদের ছুটি শুরু হলেই গণমাধ্যমে প্রকাশিত নতুন নোটের ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট দুর্নীতির খবরগুলো ধীরে ধীরে অন্ধকারে মিলিয়ে যাবে। এই সমীকরণ মেনেই বাংলাদেশ ব্যাংক তার কর্মকর্তাদের দুর্নীতি-অনিয়মে নিয়মিত জ্বালানী সরবরাহ করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গণমাধ্যমের সংবাদে সারা দেশ তোলপাড় হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনেই “বুক চিতিয়ে” দালালদের সাথে নতুন নোটের ব্যবসা করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ইতোমধ্যে সংবাদে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তাদের কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় নি বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে কোনো ধরনের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয় নি। ফলে নতুন নোটের দুর্নীতিতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। এরমধ্যেই নতুন নোট বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রচার করায় একাধিক সাংবাদিককে লাঞ্চনার চেষ্টা করেন মতিঝিল অফিসের ক্যাশ বিভাগের কয়েকজন অসাধু কর্মচারী। মূলত সিবিএ এবং বিভিন্ন রংভিত্তিক দলের “আমরা আমরাই তো” নীতির প্রভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ মাফিয়াচক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যারা নতুন নোটের ব্যবসায়ীদের অভয়ারণ্যে বানিয়েছে। যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসন এক প্রকার অসহায় হয়ে পড়েছে।
এই ঈদের পরে আসছে ঈদুল আজহা।
ঈদ উপলক্ষে বাজারে নতুন নোট ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর সেই নোটের ব্যবসা করে লাভবান হয় নির্বাহী পরিচালক থেকে ভল্ট দারোয়ান ও বটতলার ব্যবসায়ীরা। পরের ঈদ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কী ভাবছে? নতুন নোটের রমরমা ব্যবসা বন্ধ করা না গেলে বাংলাদেশ ব্যাংকে সুশাসনের চলমান সংকট আরো ঘনীভূত হওয়ার শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, যাদের বিরুদ্ধে টাকা বেচাকেনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠছে, এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঈদের পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।