Tuesday 17 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আফগানিস্তানের হাসপাতালে পাকিস্তানের ‘বিমান হামলায়’ নিহত ৪০০

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
১৭ মার্চ ২০২৬ ১২:১৩ | আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ১২:৩৪

হামলার পর আফগান চিকিৎসা কর্মীরা একটি মৃতদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলছেন। ছবি: এএফপি।

আফগানিস্তানের কাবুলে একটি মাদক নিরাময়কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও ২৫০ জন আহত হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) আফগান তালেবান সরকারের একজন মুখপাত্র এমন দাবি করেছেন।

তবে তালেবান সরকারের এ দাবিকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। বরং তারা বলেছে, গত সোমবার রাতে তারা ‘নির্ভুলভাবে সামরিক স্থাপনা এবং সন্ত্রাসী সহায়তা অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল’।

তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টার দিকে কাবুলের ওমর মাদক পুনর্বাসন হাসপাতালকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি এক্স-এ লিখেছেন, হাসপাতালটি ২,০০০ শয্যার এবং এই হামলায় ভবনটির বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

এক্সে এক পোস্টে ফিতরাত আরও বলেন, ‘বড় আকারে হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুঃখজনকভাবে, এখন পর্যন্ত নিহত ৪০০ জনে পৌঁছেছে, আরও প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করেছে।’

স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দমকলকর্মীদের আগুন নেভানোর ফুটেজ পোস্ট করেছে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, হাসপাতালের ৩১ বছর বয়সী নিরাপত্তাকর্মী ওমিদ স্টানিকজাই এএফপি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, হামলার আগে তিনি আকাশে যুদ্ধবিমানের টহল দেওয়ার শব্দ শুনেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের চারপাশে সামরিক ইউনিট ছিল। যখন এই সামরিক ইউনিটগুলো যুদ্ধবিমানটির ওপর গুলি চালায়, তখন বিমানটি বোমা ফেলে এবং আগুন লেগে যায়।’

তিনি আরও বলেন, নিহত ও আহত সবাই বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।

তবে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স হতাহতের সংখ্যাটি যাচাই করতে পারেনি। রাতের বেলা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করাও সম্ভব হয়নি।

পরে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে দাবি করা হয়, আফগান তালেবান ‘তথ্য বিকৃত করে উপস্থাপন করেছে’।

সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম এক্সে মধ্যরাতে এক পোস্টে পাকিস্তান বলেছে, পাকিস্তান কাবুল ও নানগারহারে সামরিক স্থাপনা এবং ‘সন্ত্রাসী সহায়তা অবকাঠামো’ হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছিল, যার মধ্যে ছিল প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার ও গোলাবারুদের গুদাম। আফগান তালেবান ও পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিরা পাকিস্তানের বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে এগুলো ব্যবহার করছিল।

অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, দাবি পাকিস্তানের

এক্স পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ‘পাকিস্তানের লক্ষ্যবস্তু নির্ভুল এবং সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচিত, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি না হয়। এখন সেটিকে মাদক পুনর্বাসনকেন্দ্র হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যাতে মানুষের আবেগকে প্ররোচিত করা যায়। এর পেছনে রয়েছে সীমান্তে সন্ত্রাসের অবৈধ সহায়তাকে আড়াল করার চেষ্টা।’

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান একসময় ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল। কিন্তু গত মাস থেকে দুই দেশের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। গত মাসে পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিমান হামলা চালায়। ইসলামাবাদের দাবি ছিল, জঙ্গিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে তারা ওই হামলা চালিয়েছিল।

আফগানিস্তান ওই বিমান হামলাগুলোকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর