ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে ১৮০ দিনের একটি পরিকল্পনা দিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা)।
সোমবার (১৬ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ কথা জানান।
আশিক চৌধুরী লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমরা ১৮০ দিনের প্ল্যান দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে আমার পূর্বে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু গত এক মাসে অনেকগুলো আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে এবং ওয়ান-টু-ওয়ান রিভিউ-তে তার সাথে সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কিছু লিডারশিপ ক্যারেক্টার আমাকে আশাবাদী করেছে।
প্রথমত: হি ইজ আ গুড লিসেনার। উনি সবার কথা ধৈর্য্য ধরে শুনছেন। কাউকে কিছু চাপিয়ে দিচ্ছেন না।
দ্বিতীয়ত: প্রধানমন্ত্রী রেজাল্ট ওরিয়েন্টেড আলোচনা করছেন। “আপনার এই উদ্যোগে কী ফল পাওয়া যাবে এবং কত দ্রুত পাওয়া যাবে”, সবাইকে এসব প্রশ্ন করছেন।
তৃতীয়ত: উনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সমায়নুবর্তিতা, শিষ্টাচার, অনাড়ম্বর মানসিকতা এসব নিজে চর্চা করছেন।
ফেসবুক পেজে বলা হয়, ১৬ মার্চের ক্যাচ-আপ এ আমরা প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের ১৮০ দিনের প্ল্যান শেয়ার করেছি। আমি আগেও বলেছি, সরকারি সংস্থাগুলোতে জবাবদিহিতামূলক কালচার আনা জরুরি। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের আগামী ছয় মাসের প্রতিশ্রুতি আপনাদের শেয়ার করছি:
বৈশ্বিক অস্থিরতার ফলস্বরূপ বিশ্বব্যাপী এফডিআই নিম্নমুখী। তাই আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে বিদেশী বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশী বিনিয়োগের প্রতি মনোযোগ দেয়া তথা কর্মসংস্থান তৈরিতে সাহায্য করা।
কিন্তু অন্যান্য চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সম্ভাব্য জ্বালানি ঘাটতি আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে। এগুলোকে মাথায় রেখেই আমাদের ২৫টি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হচ্ছে:
– সরকারি বন্ধ ও রুগ্ন শিল্প কারখানাগুলোকে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে প্রাইভেটাইজেশন;
– ফ্রি ট্রেড জোন ও সমরাস্ত্র শিল্প নীতিমালা প্রকাশ;
– বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থা অনুসন্ধান;
– দুর্নীতি রোধে ও লিড টাইম কমাতে সমুদ্র ও বিমান বন্দরে আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালুকরণ;
– প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রাইভেট সেক্টর এডভাইসরী কাউন্সিল গঠন;
– ব্যবসা সংক্রান্ত সরকারি সার্ভিসের একক ডিজিটাল প্লাটফর্ম বাংলাবিজ-এর সম্প্রসারণ;
– বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে কোরিয়া-বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট সম্পন্ন।
ছয় মাস শেষে আমরা আবার একটা রেজাল্ট কার্ড করবো আমাদের সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে।
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান আশিক চৌধুরী। প্রথমে সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা দেওয়া হলেও পরে এপ্রিল মাসে তাকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। আশিক চৌধুরী পেশায় ব্যাংকার ছিলেন। সিঙ্গাপুরে বহুজাতিক দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) রিয়েল অ্যাসেট ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী পরিচালক ছিলেন তিনি। অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের আহবানে সাড়া দিয়ে তিনি দেশে ফিরে এ দায়িত্ব নেন।