Tuesday 17 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অর্ধেক কারখানায় বোনাস বাকি, ২৫% কারখানায় মজুরি পরিশোধ হয়নি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৭ মার্চ ২০২৬ ১৮:৪৬

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধে বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দেশের প্রায় অর্ধেক শিল্পকারখানায় এখনো ঈদ বোনাস দেওয়া হয়নি, আর এক-চতুর্থাংশ কারখানায় ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনও বকেয়া রয়েছে।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০ হাজার ১০০ শিল্পকারখানার মধ্যে ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ ২ হাজার ৫৪৪টি কারখানা এখনো গত মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি। একই সঙ্গে ৪৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ বা ৫ হাজার ৭টি কারখানা ঈদ বোনাস দেয়নি।

এর আগে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ৯ মার্চ এবং ঈদ বোনাস ১২ মার্চের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সরকার এ লক্ষ্যে রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তাও দেয়। তবুও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি।

বিজ্ঞাপন

শ্রমিক অসন্তোষের কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু মালিক ইচ্ছাকৃতভাবে বেতন ও বোনাস বিলম্ব করছেন। ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন-এর মতে, আগে বেতন-বোনাস পরিশোধ করলে শ্রমিকরা চলতি মাসের বেতনের অংশ আগাম দাবি করতে পারেন—এই আশঙ্কা থেকেই এমন বিলম্ব করা হচ্ছে।

এদিকে গাজীপুরের একটি কারখানায় মালিক নিখোঁজ থাকায় শতাধিক শ্রমিকের বেতন-ভাতা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জের একটি কারখানার সংকট কাটাতে মালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি’ (বিকেএমইএ) জরুরি ঋণ সহায়তা দিয়েছে।

অন্যদিকে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানিয়েছে, তাদের আওতাধীন অধিকাংশ কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে কিছু কারখানায় সমস্যা থাকতে পারে- বলে স্বীকার করেছেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

এ পরিস্থিতিতে ঈদের আগে শ্রমিকদের পাওনা আদায়ে আবারও আন্দোলনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত বকেয়া পরিশোধ না হলে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা বাড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর