Tuesday 17 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নতুন সরকারের ১ মাসে কোনো সীমান্ত হত্যা ঘটেনি

উজ্জল জিসান স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৭ মার্চ ২০২৬ ২২:৩৫

ভারতীয় সামীন্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশে নতুন সরকার শপথ নিয়েছে। এরই মধ্যে সরকারের এক মাস পেরিয়ে গেছে। সবচেয়ে আশার খবর হচ্ছে, গত এক মাসে সীমান্তে একটি হত্যাকাণ্ডও ঘটেনি। এটি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারেরই সাফল্য বলে মনে করছেন নতুন মন্ত্রী-এমপিরা। আর এই ধারাবাহিকতাও ধরে রাখতে চায় সরকার। তবে এক্ষেত্রে জনগণকে আবারও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দফতর ও বিজিবি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্ডার গার্ড সূত্র জানায়, এক মাসে সীমান্তে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। বিজিবিও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সাধারণ মানুষ সীমান্ত রেখা বরাবর যাচ্ছে না। বিএসএফ ভারত সরকারের নির্দেশে গত এক মাসে কোনো গুলি চালায়নি। কেন কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি সেটা ওই দেশের সরকারই বলতে পারবে। তবে বিএসএফ সহযোগিতামূলক আচরণ করলেই ভালো। তারা এর আগে অবৈধভাবে প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহার করেছে। সরাসরি গুলি করে শত শত সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিন্তু ভারত সেটা করেছে। সবচেয়ে সমালোচিত সীমান্ত হত্যার একটি হলো- ‘ফেলানী হত্যাকাণ্ড’। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি সীমান্তে কিশোরী ফেলানীকে হত্যা করে বিএসএফ তার মরদেহ কাটাতাঁরের বেড়ায় ঝুলিয়ে রেখেছিল। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে ওই সময়।

বিজ্ঞাপন

বিজিবি সূত্রানুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক তিনটি গুলির ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ- তারা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে চোরাচালানের চেষ্টা করছিল। সেজন্য বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তারা নিহত হয়। তবে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত আর কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, শপথ নেওয়ার পরপরই দিল্লিকে বার্তা দেওয়া হয়েছে, সীমান্তে অবৈধ মারনাস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। বিনা কারনে বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করা যাবে না। এসব বন্ধ করতে করতে। কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গুলি না চালানোটা ভালো দিক প্রতিবেশি দেশের। নিরীহ কেউ যেন হত্যার শিকার না হন সেটাই বারবার বলা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সীমান্ত হত্যা জিরো ফিগারে আনতে কাজ করছে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোটায় আনতে কাজ করা হচ্ছে। এতে পুলিশ, বিজিবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে ভারত সরকার সেদিকে নজর দেবে।

এদিকে ২০২৫ সালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও ভারতের নাগরিকদের হাতে বাংলাদেশিদের হত্যার সংখ্যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। যদিও সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারত।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিএসএফ’র হাতে ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হন। এর মধ্যে ২৪ জন গুলিতে এবং ১০ জন নির্যাতনের ফলে মারা যান। আগের বছরগুলোতে সীমান্তে বিএসএফ’র গুলি ও নির্যাতনে নিহতের সংখ্যা ছিল- ২০২৪ সালে ৩০, ২০২৩ সালে ৩১, ২০২২ সালে ২৩ এবং ২০২১ সালে ১৮ জন।

এ ছাড়া, ২০২৫ সালে সিলেট সীমান্ত এলাকায় ভারতের নাগরিকদের, বিশেষ করে খাসি জনগোষ্ঠীর সদস্যদের হাতে অন্তত ১২ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে নিউ এজ জানিয়েছে। আসকের তথ্যানুযায়ী, একই বছরে আরও অন্তত ৩৮ জন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ বা নির্যাতনের শিকার হন এবং ১৪ জনকে বিএসএফ অপহরণ করে। যাদের মধ্যে মাত্র চারজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মী নাসির উদ্দিন এলান সারাবাংলাকে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সীমান্ত হত্যার ঘটনা বাড়লেও গত এক মাসে সীমান্তে কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি, যা ইতিবাচক মনে হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

উজ্জল জিসান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর