ঢাকা: আসন্ন ঈদকে ঘিরে দেশের মসলার বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি এবং ডলারের দরে ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে আগে যে দফায় মসলার দাম বেড়েছিল, তা এখনো কমেনি। বরং খুচরা বাজারে অনেক পণ্যের দাম আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুড়ে মসলার বাজারে অস্থিরতা দেখা যায়।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে দামি মসলা পণ্য হিসেবে অবস্থান করছে এলাচ। খুচরা পর্যায়ে এর দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা কেজি পর্যন্ত উঠেছে। অথচ মাত্র দুই বছর আগেও এলাচ বিক্রি হতো প্রায় ২ হাজার টাকা কেজি দরে। সে হিসাবে অল্প সময়ের ব্যবধানে পণ্যটির দাম আড়াই গুণেরও বেশি বেড়েছে।
পাড়া-মহল্লার ছোট দোকানগুলোতে এলাচের দাম আরও বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
এক ক্রেতার ভাষ্য, ১০০ টাকার এলাচ চাইলে দোকানি ২০ গ্রাম ১২০ টাকায় দিতে চেয়েছেন। এতে প্রতি কেজির দাম দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার টাকা, যা সাধারণ ভোক্তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে দারুচিনির চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে দারুচিনির দাম কেজিপ্রতি ৫৬০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। এছাড়া লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, ধনিয়া ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং তেজপাতা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে।
অন্যান্য মসলার মধ্যে জয়ত্রী ৪ হাজার টাকা এবং জায়ফল প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক মাসে এসব পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে, বিশেষ করে ছোট খুচরা বাজারে এর প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।
তবে সব মসলার দাম যে বেড়েছে, তা নয়। জিরার ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। বর্তমানে বাজারে জিরা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে, যা গত কোরবানির ঈদের আগে ছিল ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকা।
ক্রেতা মোমিনুর-নাহার মুমু বলেন, মসলা কিনতে আসছি, কিন্তু দাম বেশি চাচ্ছে। আর দুই বা একটা দোকানে দেখি। কিছু করার নাই। মসলা তো নিতেই হবে।
মসলা ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম জানায়,আগের তুলনায় এবার দাম একটু বেশী তবে জিরার দাম কম আছে।স্যার আমার কিছু করার নাই,আমিও বেশি দামে কিনে এনেছি।
ব্যবসায়ীদের মতে, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, ডলারের উচ্চমূল্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে মসলার বাজারে এই চাপ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে ঈদের কেনাকাটায় বাড়তি চাপ পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।