Wednesday 18 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শেষ মুহূর্তের ঈদ কেনাকাটার ভিড় অভিজাত শপিংমলগুলোতে

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৮ মার্চ ২০২৬ ২০:৩৫

শপিংমলগুলোতে শেষ মুহূর্তের ঈদ কেনাকাটার ব্যস্ত ক্রেতারা। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: ক্যালেন্ডারের পাতায় বাকি আর মাত্র একটি বা দুইটি দিন। যদি বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পশ্চিম আকাশে শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ দেখা যায়, তবে পরশুই উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর অথবা একদিন পরেই। ঈদের এই শেষ লগ্নে এসে রাজধানী ঢাকা এখন উৎসবের নগরী। সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় যানজটের চিরচেনা রূপ কিছুটা মলিন হলেও বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় যেন বাঁধ ভেঙেছে। বিশেষ করে যারা এবার নাড়ির টানে বাড়ি যাননি কিংবা যারা রাজধানীতেই ঈদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় তাদের পদচারণায় মুখর এখন রাজধানীর অভিজাত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিংমলগুলো।

বসুন্ধরা সিটি থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক, সবখানেই উচ্চবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। বুধবার (১৮ মার্চ) শেষ মুহূর্তের এই কেনাকাটায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে তরুণ-তরুণীদের ফ্যাশনেবল পোশাক এবং শিশুদের রঙিন সাজ। শপিংমলগুলোতে এবার বিদেশি ডিজাইনের বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের নামী ব্র্যান্ডের পাশাপাশি দেশীয় ফিউশন পোশাকের এক বিশাল সমাহার দেখা যাচ্ছে।
তরুণীদের জন্য এবারও ট্রেন্ডে রয়েছে বাহারি কারুকাজের শারারা, ঘারারা এবং লং কামিজ। অন্যদিকে, তরুণদের প্রথম পছন্দ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির লিনেন ও সুতি পাঞ্জাবি। ছোটদের জন্য এসেছে পশ্চিমা ধাঁচের ফ্রক, পার্টি ড্রেস এবং রঙিন কো-অর্ড সেট।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর একটি অভিজাত শপিংমলের নামী ব্র্যান্ড ‘জেন্টল পার্ক’র আউটলেটে কথা হলো বিক্রয়কর্মী শামীম আহমেদের সঙ্গে। ঘাম মুছে হাসিমুখে তিনি বলেন, ‘ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদের দম ফেলার সময় নেই। এবার গত কয়েক বছরের তুলনায় বেচাকেনা অনেক ভালো। তরুণরা এবার প্রিন্টেড এবং সলিড কালারের স্লিম ফিট পাঞ্জাবি বেশি খুঁজছে। দাম একটু বেশি হলেও মান ভালো হওয়ায় ক্রেতারা হাসিমুখে কিনছেন। আজ রাত পর্যন্ত হয়তো এই ব্যস্ততা চলবে।’

শপিংমলগুলোতে শেষ মুহূর্তের ঈদ কেনাকাটার ব্যস্ত ক্রেতারা। ছবি: সারাবাংলা

ভিড়ের মধ্যে সন্তানদের নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী শারমিন আক্তার জানান তার অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের জন্য আগেই কিছু কেনাকাটা করেছিলাম, কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে নিজের জন্য একটা ম্যাচিং শাড়ি আর ছোট ছেলের জন্য একটা থ্রি-পিস নিতে হলো। গতবারের চেয়ে এবার ডিজাইনে অনেক বৈচিত্র্য আছে, তবে দামটা একটু চড়া মনে হচ্ছে। তবুও ঈদ বলে কথা, বাজেটের চেয়ে পছন্দটাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি।’

বেচাকেনার এই তুঙ্গে থাকা অবস্থায় মার্কেটে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রাফসান ইবনে হক বলেন, ‘অফিসের চাপে আগে সময় পাইনি। আজ সময় বের করে এলাম। দেখলাম বিদেশি ড্রেসের কালেকশন এবার দেখার মতো। আমার ছোট বোনের জন্য একটা ডিজাইনার কামিজ কিনলাম। মানানসই দাম আর কোয়ালিটি। দুটো মিলিয়েই এবার বাজার বেশ জমে উঠেছে।’

এদিকে বেচাকেনার হালচাল জানতে কথা হয় রাজধানীর একটি অভিজাত পাঞ্জাবি ব্র্যান্ডের শোরুম ম্যানেজার আরিফ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদের দম ফেলার সময় নেই। এবার গত কয়েক বছরের তুলনায় বেচাকেনা অনেক ভালো। তরুণরা এবার প্রিন্টেড এবং সলিড কালারের স্লিম ফিট পাঞ্জাবি বেশি খুঁজছে। আমরা আশা করছি চাঁদ রাত পর্যন্ত এই ভিড় থাকবে এবং গত বছরের তুলনায় এবার প্রফিট মার্জিন বেশ ভালো হবে।’

অন্যদিকে লেডিস কর্নারের স্বত্বাধিকারী নাসরিন সুলতানা বেশ তৃপ্তির হাসি হেসে বলেন, ‘এবার পাকিস্তানি লন এবং ইন্ডিয়ান ডিজাইনার থ্রি-পিসের চাহিদা আকাশচুম্বী। ক্রেতারা মানানসই ডিজাইনের জন্য ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করতেও দ্বিধা করছেন না। শেষ মুহূর্তে এসে আমাদের স্টকের অনেক পোশাকই শেষ হয়ে গেছে। চাঁদ রাত পর্যন্ত যে পরিমাণ কাস্টমার আসবে বলে মনে হচ্ছে, তাতে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অনায়াসেই ছাড়িয়ে যাবে।’

ভিড়ের মধ্যে সন্তানদের নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী শারমিন আক্তার জানান তার অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের জন্য আগেই কিছু কেনাকাটা করেছিলাম, কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে নিজের জন্য একটা ম্যাচিং শাড়ি আর ছোট ছেলের জন্য একটা থ্রি-পিস নিতে হলো। গতবারের চেয়ে এবার ডিজাইনে অনেক বৈচিত্র্য আছে, তবে দামটা একটু চড়া মনে হচ্ছে। তবুও ঈদ বলে কথা, বাজেটের চেয়ে পছন্দটাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি।’

বেচাকেনার এই তুঙ্গে থাকা অবস্থায় মার্কেটে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রাফসান ইবনে হক বলেন, ‘অফিসের চাপে আগে সময় পাইনি। আজ সময় বের করে এলাম। দেখলাম বিদেশি ড্রেসের কালেকশন এবার দেখার মতো। আমার ছোট বোনের জন্য একটা ডিজাইনার কামিজ কিনলাম। মানানসই দাম আর কোয়ালিটি। দুটো মিলিয়েই এবার বাজার বেশ জমে উঠেছে।’

দোকানিদের মতে, এবার গরমে ঈদ হওয়ায় হালকা ও আরামদায়ক কাপড়ের ওপর জোর দিয়েছেন ডিজাইনাররা। তাই সুতি ও মসলিনের ওপর কাজ করা পোশাকগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

শপিংমলগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর আলোকসজ্জা ক্রেতাদের কেনাকাটার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চাঁদ রাতের আগ পর্যন্ত এই ধুম চলবে বলেই আশা করছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।

সারাবাংলা/এফএন/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর