Thursday 19 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঈদে সেমাই, চিনি, মসলা ও সুগন্ধি চালসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ল

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৯ মার্চ ২০২৬ ১৪:৫৯

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ঈদের আগে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে নিত্যপণের বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের দামও হু হু করে বাড়ছে। কোনো কোনো পণ্যের দাম ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। ঈদ রান্নায় সেমাই, চিনি, মসলা ও সুগন্ধি চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম শুনে মাথায় ক্রেতার হতাশা বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি কিনছেন সুগন্ধি চাল, সেমাই, চিনি, দুধ ও বিভিন্ন ধরনের মশলা। বাড়তি চাহিদা থাকা প্রায় প্রতিটি পণ্যের দামই গত কয়েকদিনের ব্যবধানে বড় অংক হেরফের হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাজারে খোলা ও প্যাকেটজাত সুগন্ধি চাল কিনতে কয়েকদিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কালিজিরা ও চিনিগুঁড়া চালের এক কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে কোম্পানিভেদে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়। অন্যদিকে খোলা চাল পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ১৪০-১৫০ টাকায়।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুগন্ধি চালের প্রতি কেজির দর ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯০ থেকে ১৩০ টাকা। সে হিসেবে দাম বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। এরমধ্যে গত এক মাসে বেড়েছে ৮ শতাংশ।

খুচরা বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২০০ গ্রাম সেমাই ৪০-৪৫ টাকা, ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাই ২৮০ টাকা, আলাউদ্দিন সুইটের ৫০০ প্যাকেট সেমাই ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, ৫০০ গ্রাম অলিম্পিয়া সেমাই ২৮০ থেকে ৭০০ টাকা, ২০০ গ্রামের বনফুল ও কুলসন সেমাই প্যাকেট ৪৫ টাকা। এছাড়া খোলা লম্বা সেমাইয়ের কেজি ৯০ টাকা এবং লাচ্ছার কেজি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে কেজিপ্রতি বিদেশি চিনি ১০০-১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার শুরুতেও যা ৯৫-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর দেশি চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে টিসিবির তথ্য অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় পণ্যটির দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত কম রয়েছে।

বাজারে বিভিন্ন ধরনের মশলার দামও কয়েক দিনের ব্যবধানে বেড়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে দামি মশলা এলাচ প্রতিকেজি খুচরা পর্যায়ে ৫ হাজার টাকা দাম রাখা হচ্ছে। দারুচিনির দাম কেজিপ্রতি ৫৬০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। অন্যান্য মশলার মধ্যে জয়ত্রি ৪ হাজার টাকা এবং জায়ফল প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া লবঙ্গ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, ধনিয়া ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং তেজপাতা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর জিরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কিসমিস, আলুবোখারা, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও পেস্তা বাদামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে খোলা তেলের দাম বেড়ে প্রতি ২১৫ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে।

বাজারে বিভিন্ন ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও সবজির বাজারে স্বস্তি দেখা গেছে। পেঁয়াজ, আলু, লেবু, শসা, বেগুনসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা, আলু ১৮-২০ টাকা এবং টমেটো ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা ৩৫-৫০ টাকা এবং বেগুন ৫০-৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আর কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে লেবুর দাম অবশ্য বাড়তি রয়েছে। প্রতিহালি লেবু ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

সারাবাংলা/একে/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর