Thursday 19 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ফুটপাতে ঈদের কেনাকাটা: উপচে পড়া ভিড়

নাজনীন লাকী, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৯ মার্চ ২০২৬ ১৭:২৮ | আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৭:৩৪

– ছবি : সারাবাংলা

ঢাকা: ঈদ মানেই নতুন পোশাক, প্রিয়জনের জন্য উপহার আর শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। এই সময় শহরের বড় বড় শপিংমলের পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানগুলোতেও জমে ওঠেছে কেনাকাটার প্রাণচাঞ্চল্য। রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি সবখানেই ফুটপাতজুড়ে বসে অস্থায়ী বাজার, যেখানে কম দামে নানা পণ্য পেয়ে ক্রেতারা ভিড় জমায়।

সাশ্রয়ী দামের আকর্ষণ

ফুটপাথের বাজারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো কম দাম। যেখানে শপিংমলে একটি পোশাক কিনতে কয়েক হাজার টাকা খরচ হতে পারে, সেখানে ফুটপাথে তুলনামূলক কম দামে একই ধরনের বা কাছাকাছি ডিজাইনের পোশাক পাওয়া যায়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য এটি বড় স্বস্তির বিষয়।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে গৃহিণী রাশেদা বানু বলেন, “ঈদের সময় পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতে হয়, তাই বাজেট অনেক বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। শপিংমলে সবকিছু কিনতে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। ফুটপাথে ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করলে একই ধরনের পোশাক অনেক কম দামে পাওয়া যায়। দরদাম করার সুযোগ থাকায় নিজের সামর্থ্যের মধ্যে কেনাকাটা করা যায়, এটাই সবচেয়ে বড় সুবিধা।”

বৈচিত্র্যময় পণ্যের সমাহার

ফুটপাথে শুধু পোশাকই নয় জুতা, ব্যাগ, কসমেটিকস, গহনা থেকে শুরু করে শিশুদের খেলনা পর্যন্ত পাওয়া যায়। অনেক বিক্রেতা ট্রেন্ডি ফ্যাশন অনুসরণ করে নতুন ডিজাইন নিয়ে আসেন, যা তরুণদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। শিক্ষার্থী তানভীর হাসান এ বিষয়ে বলেন, “আমি মূলত ট্রেন্ডি পোশাক খুঁজি। অবাক লাগে, অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব ডিজাইন দেখি, তার কাছাকাছি জিনিস ফুটপাতেই পাওয়া যায়। দামও তুলনামূলক কম। তবে কিনতে গেলে কাপড়ের মান ভালোভাবে দেখে নিতে হয়, না হলে পরে সমস্যা হতে পারে।

– ছবি : সারাবাংলা

চাকরিজীবী নুসরাত জাহান বলেন, “ফুটপাথে কেনাকাটার একটা আলাদা বিষয় হলো ভিড়, মানুষের কোলাহল, দরদাম সব মিলিয়ে উৎসবের একটা আমেজ তৈরি হয়। তবে ভিড়ের কারণে মাঝে মাঝে একটু অসুবিধা হয়, বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে গেলে। তারপরও কম দামের জন্য এখানেই আসি।”

দর কষাকষির আনন্দ

ফুটপাথের কেনাকাটায় দরদাম করার একটি আলাদা মজা আছে। ক্রেতারা নিজের বাজেট অনুযায়ী দর কষাকষি করে পছন্দের পণ্য কিনতে পারেন। এই অভিজ্ঞতা শপিংমলের নির্ধারিত দামের বাইরে এক ভিন্ন স্বাদ দেয়।

ভিড় আর ভোগান্তি

তবে এই আনন্দের পাশাপাশি কিছু ভোগান্তিও রয়েছে। ফুটপাথে প্রচণ্ড ভিড় থাকে, ফলে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। কখনো কখনো নিরাপত্তা ঝুঁকি বা পকেটমারের আশঙ্কাও থাকে। এছাড়া পণ্যের গুণগত মান সবসময় নিশ্চিত থাকে না।

বিক্রেতাদের আশা-ভরসা

ঈদ মৌসুম ফুটপাথের ব্যবসায়ীদের জন্য বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ের বিক্রি দিয়েই অনেকেই পুরো বছরের খরচ মেটানোর চেষ্টা করেন। তাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তারা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ব্যস্ত থাকেন। পোশাক বিক্রেতা রুহুল কবির জানান, ঈদ আমাদের ব্যবসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই কয়েক সপ্তাহের বিক্রির ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করে। আমরা আগেই বিভিন্ন জায়গা থেকে পণ্য সংগ্রহ করে রাখি, যাতে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন ডিজাইন দিতে পারি।

– ছবি : সারাবাংলা

ব্যবসায়ী শফিকুল আলম জানান, “ফুটপাথে ব্যবসা করা সহজ না। রোদ, বৃষ্টি, ধুলো সবকিছু সহ্য করতে হয়। তবুও ঈদের সময় এত বেশি ক্রেতা আসে যে কষ্টটা ভুলে যাই। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে থাকি, শুধু এই আশায় যে বিক্রি ভালো হবে।”

ঈদের কেনাকাটায় ফুটপাত একদিকে যেমন সাশ্রয়ী বিকল্প, অন্যদিকে এটি শহরের উৎসবমুখরতারও একটি অংশ। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও, মানুষের ভিড় আর হাসিমুখে কেনাকাটার দৃশ্যই বলে দেয়, ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে শহরের প্রতিটি কোণে, এমনকি ফুটপাতেও।

সারাবাংলা/এনএল/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো