নেত্রকোনা: একটানা প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে অবস্থিত জেলার সবচেয়ে বড় ডিঙাপোতা হাওরে পানি প্রবেশ করছে। ফলে হাওর এলাকার একমাত্র ফসল হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান হুমকির মুখে পড়েছে।
মোহনগঞ্জ উপজেলার করাচাপুর এলাকার কেওরাখালী খাল দিয়ে এই পানি প্রবেশ করছে হাওরে। এখানে সরকারি কোন বাঁধ না থাকায় ফসল টিকাতে বাধ্য হয়ে দলবেঁধে মাটি কেটে ওই খালে অস্থায়ী বাঁধ দিচ্ছেন এলাকার কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে এলাকার কৃষকরা দল বেঁধে নিজেরাই কেওরাখালী খালের মুখে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার শস্যভাণ্ডার নামে সুপরিচিত মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙাপোতা হাওর। প্রতি বছর এ হাওরে উৎপাদিত ধান এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে থাকে। সাতমা ধলাই নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে কেওরাখালী খালটি ডিঙাপোতা হাওরে গিয়ে প্রবেশ করেছে। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান।
একটানা মৌসুমি বৃষ্টি ও ভারতীয় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সাতমা ধলাই নদী কানায় কানায় ভরে গিয়েছে। এজন্য অতিরিক্ত নদীর উপচে পড়া অতিরিক্ত পানি কেওরাখালী খাল দিয়ে ডিঙাপোতা হাওরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। খাল দিয়ে পানি হাওরে প্রবেশ করতে শুরু করায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার বোর চাষ করা কৃষকরা।
মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ফারুক আহম্মেদ সিদ্দিকী জানান, এলাকার কৃষকরা বোরো ধান বন্যার পানির হাত থেকে রক্ষার জন্য স্বেচ্ছায় বাঁধ নির্মাণ করে আসছেন বছরের পর বছর ধরে। মাঝে দুই বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে বাঁধ নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। বাঁধের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করায় এ বছর তা সরকারিভাবে নির্মাণ করা হয়নি।
গাগলাজুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আঙ্গুর মিয়া জানান, এ বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে সরকারিভাবে বাঁধ নির্মাণ না করার বৃষ্টি ও উজানের ঢলের পানিতে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান হুমকির মুখে পড়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। কৃষকের দুর্দিনে স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
মোহনগঞ্জ উপজেলা কাবিটা প্রকল্পের সদস্য সচিব ও পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী এনায়েত হোসেন বলেন, ‘অকাল বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে কৃষকরা বোর ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।এ ব্যাপারে অভিযোগ না হলে সময়মতো বাঁধ অবশ্যই নির্মাণ করা হতো।’
মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কাবিটা প্রকল্পের সভাপতি আমেনা খাতুন বলেন, ‘হাওরের বিপুল পরিমাণ বোরো ফসল বাঁচাতে কেওরাখালী খালের বিকল্প নেই।এ বাঁধের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ থাকায় কোন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে আগামী মৌসুমে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। তবে এবছরের বিষয়টি ভেবে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।’
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় পাউবোর অধীনে প্রায় ৩৬৫ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ রয়েছে। কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের আওতায় এ বছর ১৩৭ দশমিক ৫৭৯ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করতে ২০২টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। এতে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ৫২ লাখ টাকা।