ফরিদপুর: ফরিদপুর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা। বাজারে পেঁয়াজের দামের দরপতনে বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কায় ফরিদপুরের চাষীরা। প্রতিকেজি পেঁয়াজ উৎপাদানে ৪০ টাকার বেশি খরচ হলেও বর্তমানে ২০ টাকা দরে বিক্রি করায় অর্ধেকের বেশি লোকশান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এখন মাঠ থেকে হালি পেঁয়াজ উঠানো শুরু হয়েছে। লালতি, হাফিজ কিং, আফগান হাইব্রিডসহ বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছে চাষিরা। কিন্তু এ বছর ফলন ভালো হলেও মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মন দরে পেয়াজ বিক্রি করে ব্যাপক লোকশানের মুখে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।
সালথা উপজেলার সিংহপ্রতাপ গ্রামের আমজেদ শেখ জানান, তিনি এবছর ৩ বিঘা জমিতে হালি পেঁয়াজের চাষ করেছেন। জমি চাষ দেওয়া থেকে শুরু করে বীজ, সার, ওষুধ, কীটনাশক, সেচসহ অনেক লেবার খরচ হয়েছে। এতে পেঁয়াজ আবাদের তার খরচও বেড়ে গেছে। গত ২ সপ্তাহের বেশি সময় হালি পেয়াজের দাম ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বাজারে কেনাবেচা হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষ্যে ও সারের দোকানের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে ৩ কাঠা জমির পেয়াজ উঠিয়েছি। কিন্তু কম দামে বিক্রি করায় অনেক লস হয়েছে।
একই গ্রামের হালিম মুন্সী বলেন, মাঠ থেকে পেঁয়াজ উঠানো উপযোগী হলেও বাজারে দাম কম থাকায় সেগুলো উঠানোর আগ্রহ নেই অনেকের। পেঁয়াজের ন্যায্য দাম না পেলে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে তারা। এক মন পেঁয়াজের উৎপাদন খরচই হয় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা। সেখানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। মৌসুমের শুরুতেই এমন দাম হলে ভরা মৌসুমে নাম নিয়ে শঙ্কায় তারা। ১৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা হলে তাদের কিছু লাভ হবে বলে জানান কৃষক। তবে পেঁয়াজের এলসি বন্ধসহ ন্যায্য মূল্য পেতে দ্রুত সরকারকে এ বিষয়ে নজর দেওয়ার দাবি তাদের।
জেলা সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন জানান, বর্তমানে এলসি বন্ধ আছে। তবে নতুন হালি পেঁয়াজের বাজারে কৃষকদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। কৃষক ও ভোক্তার কথা মাথায় রেখে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করে সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত হলে কৃষক লোকশানের হাত থেকে রক্ষা পাবে। তবে ব্যাপক ভাবে সংরক্ষন করা শুরু হলে দাম কিছুটা বাড়তে বলে আশ্বাস তার। কৃষি বিপণনের পক্ষ থেকে জেলায় ২৬৫টি পেঁয়াজ সংরক্ষনের মডেল ঘর নির্মান করা হয়েছে। কৃষকরা চাইলে এ ধরণের ঘর নির্মান করে তাদের পেঁয়াজ সংরক্ষন করে রাখতে পারেন। দামের সময় বিক্রি করলে কৃষক লাভবান হবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান জানান, এ বছর পেঁয়াজের ফলন ভাল হয়েছে। জেলার সাথলা, নগরকান্দা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয়ে থাকে। দেশের মানুষের সারা বছরের চাহিদা পুরণে হালি পেঁয়াজই একমাত্র ভরসা। এই পেঁয়াজটি ভাল করে শুকিয়ে ঘরে সংরক্ষন করা যায়। তাই দেশীয় পদ্ধতিসহ পেঁয়াজ সংরক্ষনের ব্লোয়ার মেশিন ঘরে বসিয়ে ভাল ভাবেই পেঁয়াজ সংরক্ষন করা যায়। এখন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। দাম কিছুটা কম থাকলেও ঈদের পরে দাম বাড়তে পারে। কৃষক তাদের পেঁয়াজ সংরক্ষন করে ধীরে ধীরে বিক্রি করলে ক্ষতি পুশিয়ে লাভবান হতে পারেন।
এ বছর তাদের লক্ষমাত্রার চেয়ে ৭ হাজার হেক্টার জমিতে পেঁয়াজের আবাদ বেশি হয়েছে। জেলায় মোট ৪৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে হালি পেঁয়াজ আবাদ করেছে কৃষক। যা থেকে ৬ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে।