ঢাকা: দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। রাট পোহালেই ঈদ। তাই নতুন জামা-কাপড়ের পাট চুকিয়ে এখন ব্যস্ততা ঘর সাজানো নিয়ে। ড্রয়িংরুমের নতুন পর্দা, মেঝেতে বিছানোর জন্য কার্পেট কিংবা দেয়ালের কোণে বাহারি ল্যাম্পশেড, সব মিলিয়ে অন্দরমহলকে নতুন রূপে সাজাতে রাজধানীর শপিং মল থেকে ফুটপাত, সর্বত্রই এখন নগরবাসীর আনাগোনা।
অন্দর সাজাতে নারীদের পছন্দ যা কিছু
ঈদের নামাজ শেষে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের আপ্যায়নের মূল কেন্দ্রবিন্দু থাকে ড্রয়িংরুম। তাই ঘরের এই অংশটি সাজাতেই নারীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।
রাজধানীর নিউ মার্কেট ও চাঁদনী চকে ঘর সাজানোর সামগ্রী কিনতে আসা গৃহিণী আফরোজা সুলতানা বলেন, “ঈদে মেহমান আসবে, তাই ঘরের পরিবেশটা একটু ফ্রেশ হওয়া চাই। ড্রয়িংরুমের জন্য এবার হালকা রঙের নেট বা টিস্যু কাপড়ের পর্দা খুঁজছি। সাথে ম্যাচিং কুশন কভার আর টেবিল রানার কিনলাম। দেয়ালের এক কোণে একটু ইনডোর প্ল্যান্ট আর একটা মাটির ল্যাম্পশেড বসাতে পারলে ঘরটা একদম বদলে যাবে।”
তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ছোট ছোট শোপিস, মোমবাতি স্ট্যান্ড এবং দেয়ালচিত্র। অনেকে আবার পুরোনো সোফার নতুন কাভার কিংবা জানালার রঙিন পর্দা কিনে ঘরে নতুনত্বের ছোঁয়া আনতে চাইছেন।

– ছবি : সংগৃহীত
বিক্রেতাদের ব্যস্ততা
বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও শেষ মুহূর্তের বিক্রিতে সন্তুষ্ট বিক্রেতারা। এলিফ্যান্ট রোডের একটি পর্দা ও কার্পেটের দোকানের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “শেষ ২-৩ দিন ধরে আমরা নিঃশ্বাস ফেলার সময় পাচ্ছি না। কার্পেট এবং কৃত্তিম ঘাসের (Artificial Turf) চাহিদা এবার অনেক বেশি। এছাড়া জ্যামিতিক নকশার পর্দার চাহিদাও গতবারের চেয়ে বেশি। মানুষ এখন শৌখিন জিনিসের পেছনে খরচ করতে দ্বিধা করছে না।
নিউ মার্কেটের মাটির শোপিস বিক্রেতারাও জানালেন, ইনডোর গার্ডেনিংয়ের ক্রেজ বাড়ায় মাটির বাহারি টব ও ঘর সাজানোর ঘরোয়া সামগ্রীর বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে।
পছন্দের সামগ্রী যেখানে পাবেন
আপনি যদি এখনো ঘর সাজানোর কেনাকাটা সেরে না থাকেন, তবে আপনার বাজেটের ওপর ভিত্তি করে বেছে নিতে পারেন নিচের জায়গাগুলো:
* সাশ্রয়ী কেনাকাটার জন্য: নিউ মার্কেট, গাউছিয়া এবং নীলক্ষেত এলাকার ফুটপাত। এখানে পর্দা, কুশন কভার, মাটির শোপিস এবং ঘরোয়া ডেকোরেশনের প্রচুর কালেকশন রয়েছে।
* বিলাসবহুল ও ইউনিক সামগ্রীর জন্য: গুলশান ২-এর ডিসিসি মার্কেট, বনানী ১১ নম্বর রোড এবং উত্তরার বিভিন্ন লাইফস্টাইল স্টোর।
* পর্দা ও কার্পেটের জন্য: এলিফ্যান্ট রোড এবং মৌচাক মার্কেট এলাকা।
* ফার্নিচার ও বড় শোপিসের জন্য: পান্থপথ এবং বাড্ডা এলাকার ফার্নিচার গ্যালারিগুলো।
* ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে কেবল দামী জিনিস নয়, বরং সঠিক আলোকসজ্জা বা লাইটিং এবং ইনডোর প্ল্যান্ট ব্যবহার করে অল্প খরচেই ঘরে আভিজাত্য আনা সম্ভব
শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা কেবল ঘরকে আলোকিত করে না, বরং নগরবাসীর মনে পৌঁছে দিচ্ছে ঈদের বারতা। ধুলোবালি আর কর্মব্যস্ততাকে ছাপিয়ে পরিপাটি এই অন্দরমহলগুলো এখন প্রস্তুত ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদুল ঈদুল ফিতরের আতিথেয়তা জানাতে।