ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ পরিবারের সাথে ভাগ করে নিতে ঈদের দিনও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো মানুষ। ভোরের আলো ফুটতেই সদরঘাট টার্মিনাল সরব হয়ে ওঠে যাত্রীদের পদচারণায়। আর দুপুর থেকে বিকেল গড়াতেই যাত্রীদের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে।
শনিবার (২১ মার্চ) সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে অতিরিক্ত ভিড় বা চাপ দেখা যায়নি।
যারা মূলত পেশাগত ব্যস্ততা বা অন্যান্য ব্যক্তিগত কারণে আগে ঢাকা ছাড়তে পারেননি, তারাই আজ পরিবারসহ লঞ্চের উদ্দেশ্যে সদরঘাটে হাজির হয়েছেন। বিশেষ করে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনাগামী লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের চোখ-মুখে বাড়ি ফেরার আনন্দ, আবার কারও মধ্যে রয়েছে সময়মতো পৌঁছানোর উৎকণ্ঠা-সব মিলিয়ে ঈদের দিনও থেমে নেই মানুষের যাত্রা। তবে লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়েই ছাড়ায় যাত্রীদের মধ্যে রয়েছে স্বস্তি।
ভোলার লালমোহনগামী যাত্রী ইলিয়াস আহমেদ বলেন, রাত ৩টা পর্যন্ত কাজ করেছি। তাই ঈদের নামাজ ঢাকায় পড়ে লঞ্চঘাটে চলে এসেছি। একটু দেরি হলেও পরিবারের সঙ্গে আগামীকাল, এটাই বড় তৃপ্তি।
বরিশালগামী যাত্রী মামুন জানান, ঢাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করেছেন। এখন বরিশাল শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছেন। ঈদের ভিড় এড়াতেই আজ যাত্রা করছেন।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই লঞ্চের কেবিনের টিকিট না পাওয়ায় ঈদের দিনই যাত্রা করছেন। কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবেই ঈদের দিনের তুলনামূলক কম ভিড়কে বিবেচনায় নিয়ে এই দিনটি বেছে নিয়েছেন।
এদিকে, নৌপথে যাত্রীসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে টার্মিনাল এলাকায় র্যাব, পুলিশ, নৌ-পুলিশ, ডিএমপি ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্ঘটনা এড়াতে ছোট নৌকা বা ডিঙ্গি থেকে যাত্রী ওঠা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এ বিষয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়া লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা, নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা এবং যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ করছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, ঈদের দিনও নিয়মিত লঞ্চ চলাচল অব্যাহত রয়েছে এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সদরঘাটকে আরও সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি নতুন সুবিধা চালু করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা তৎপর।