বান্দরবান: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে টানা ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের পদচারণামুখর হয়ে উঠেছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। পাহাড়, ঝিরি-ঝরনা আর সবুজ প্রকৃতির টানে ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় করছেন জেলার প্রায় সব দর্শনীয় স্থানে।
পর্যটকদের পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে মেঘলা, নীলাচল, চিম্বুক পাহাড়, নীলগিরি, শৈলপ্রপাত, দেবতাখুম, নাফাখুম জলপ্রপাত ও রেমাক্রীসহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র।
সকাল থেকেই পর্যটকরা পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে চাঁদের গাড়িতে করে এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ ঝরনার জলে গা ভিজাচ্ছেন, কেউবা পাহাড়ি পল্লিতে গিয়ে আদিবাসী সংস্কৃতি উপভোগ করছেন। অনেকেই স্মৃতি ধরে রাখতে ব্যস্ত ছবি তোলায়।
পর্যটকরা জানান, নগর জীবনের ব্যস্ততা ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো এই সময় তাদের জন্য দারুণ উপভোগ্য। নীলাচল থেকে পাহাড় আর আকাশের মিতালি কিংবা দূরের সবুজ বনভূমির দৃশ্য বিমোহিত করছে দর্শনার্থীদের।
জেলায় রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং (বিজয়) এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কেওক্রাডং। এছাড়া বগালেক, প্রান্তিক লেকসহ নানা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে।
বান্দরবানে বসবাসরত মারমা, ত্রিপুরা, মুরুং, বম, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, খেয়াং, পাংখোয়া, চাকমা, চাক, লুসাইসহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনধারাও পর্যটকদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে।
হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দীন জানান, এবারের ঈদে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য অনেক আগে থেকেই হোটেল-মোটেলগুলো বুকিং দিয়ে রেখেছেন পর্যটকরা। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রতিবছর ঈদের মৌসুমে বান্দরবানে কয়েক হাজার পর্যটকের আগমন ঘটে।
বান্দরবান টুরিস্ট পুলিশের ইন্সেপেক্টর মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিক লেক, শৈল প্রপাত, দেবতাখুমসহ পর্যটন স্পটগুলোতে যাতে পর্যটকরা নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে পারে তাদের নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে টহল অব্যাহত রেখেছেন।
জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানান, পর্যটক বান্ধব বান্দরবানে পর্যটক আসবে এটাই স্বাভাবিক,আমাদের যে পর্যটন কেন্দ্রগুলো আছে সেখেনে টুরিস্ট পুলিশ অবস্থান নিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সে নির্দেশনা আমাদের রয়েছে। বান্দরবানে যে পরিবহণ মালিক সমিতি গুলো আছে তারা যাতে পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সে ব্যপারে প্রশাসন সজাগ রয়েছে।