Sunday 22 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঈদের দ্বিতীয় দিনও শিশু পার্কগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২২ মার্চ ২০২৬ ২১:২৯

-ছবি : সারাবাংলা

ঢাকা: ঈদের আনন্দ মানেই শিশুদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, আর সেই উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময়ই থাকে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ঈদের ছুটির রেশ কাটতে না কাটতেই যান্ত্রিক শহরের যাতনা ভুলে অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে ভিড় জমিয়েছেন শিশু পার্কে।

রাজধানীর কয়েকটি শিশুপার্ক ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই পার্কের প্রবেশপথে তিল ধারণের জায়গা নেই। ছোট্ট সোনামণিদের রঙিন পোশাক আর তাদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো চত্বর। কেউ ট্রেনের অপেক্ষায় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ছটফট করছে, কেউ আবার নাগরদোলার ঘূর্ণি দেখে উত্তেজনায় হাততালি দিচ্ছে। প্রতিটি রাইডের সামনেই মানুষের দীর্ঘ সারি, তবুও কারোর চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ নেই।

বিজ্ঞাপন

পার্কের ভেতরে ট্রেনের কামরায় বসা ছোট্ট সায়রা, যার মাথায় লাল ফুলের মুকুট, সে খুশিতে ডগমগ হয়ে বলছিল, আমি মেজো চাচ্চুর সাথে এখানে এসেছি। ট্রেনের জানালা দিয়ে গাছপালা দেখতে খুব ভালো লাগছে। ট্রেন যখন বাঁশি দেয়, তখন মনে হয় সত্যি সত্যি দূরে কোথাও চলে যাচ্ছি।

– ছবি : সারাবাংলা

রাইডগুলোর ঝকঝকে আলো আর বাঁশির শব্দ শিশুদের এক মায়াবী জগতে নিয়ে গেছে। সায়রার মতো শত শত শিশুর এমন অকৃত্রিম হাসিতেই সার্থক হচ্ছে ঈদের ছুটি। তবে ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অভিভাবকদের। অনেক কষ্টে স্লাইড রাইডে মেয়েকে তোলার পর হাফাতে হাফাতে সরকারি কর্মকর্তা আসলাম হোসেন বলছিলেন, সত্যি বলতে কি, বাচ্চাদের একটু আনন্দ দিতেই আসা। অনেক লম্বা লাইন, অনেক ভিড়, কিন্তু যখন দেখি মেয়েটা স্লাইড দিয়ে নামার সময় আনন্দে চিৎকার করে উঠছে, তখন সব কষ্ট ভুলে যাই। ঢাকা শহরে তো বাচ্চাদের জন্য খোলা জায়গা খুব একটা নেই, তাই ছুটি পেলেই এখানে ছুটে আসি।

অভিভাবকদের মধ্যে অনেকেই এসেছেন দূর-দূরান্ত থেকে। ভিড়ের কারণে কিছুটা বিড়ম্বনা হলেও শিশুদের নিরাপত্তার দিকে কড়া নজর রাখছেন সবাই। কেউ হাত শক্ত করে ধরে রাখছেন, কেউ আবার পরম মমতায় শিশুর ঘাম মুছে দিচ্ছেন। এমনই একজন মা, সুলতানা রাজিয়া বলেন, আমার ছেলে রাইয়ান বায়না ধরেছিল নাগরদোলায় উঠবেই। ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করে ওকে ওঠাতে পেরেছি। ওর যে আনন্দ, সেটা আসলে অন্য কোনো গিফট দিয়ে মেটানো সম্ভব না। শিশু পার্কের এই কলরব যেন আমাদের যান্ত্রিক জীবনের সব ক্লান্তি ধুয়ে মুছে দিচ্ছে।

বিকেলের রোদ যখন মিষ্টি হতে শুরু করে, তখন পার্কের পরিবেশ যেন আরও মায়াবী হয়ে ওঠে। চারিদিকে বেলুন বিক্রেতা আর আইসক্রিমওয়ালার হাঁকডাক, সাথে শিশুদের নিরবচ্ছিন্ন ছুটোছুটি। সব মিলিয়ে এক প্রাণবন্ত উৎসবের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে এই নগরীতে। ঈদের এই কয়েকটা দিন অন্তত শহরের শিশুরা নিজেদের মতো করে ডানা মেলার সুযোগ পাচ্ছে, আর এই নির্মল আনন্দই যেন আগামীর কর্মব্যস্ত দিনগুলোর নতুন শক্তি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর