কুমিল্লা: কুমিল্লার পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলাটি করেন দুর্ঘটনায় আহত বাসযাত্রী শেফালী আক্তার। তিনি নিহত সোহেল রানার খালা এবং তার বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে।
মামলায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে রেলওয়ের দুই গেটম্যানকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- গেটম্যান হেলাল উদ্দিন ও ওয়েম্যান মেহেদী হাসান।
লাকসাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসীমউদ্দীন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারায়— দায়িত্বে অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী শেফালী আক্তার নিজেও দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন।
তিনি আরও জানান, নিহত সোহেল রানা মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। ঈদ উদযাপন করতে তিনি দেশে ফিরে নিজ বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় যান। সেখান থেকে ঈদের দিন কুমিল্লার লাকসামে খালার বাড়িতে বেড়াতে আসার পথে পদুয়ারবাজার রেলক্রসিংয়ে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান। একই ঘটনায় তার স্ত্রী ও কন্যা গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ঈদের দিন শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ারবাজার এলাকায় অবস্থিত লেভেল ক্রসিংয়ে ঢাকা মেইল ট্রেনের সঙ্গে ‘মামুন স্পেশাল’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে এবং অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই ব্যাপক শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যান হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত যাত্রীদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রেন আসার সময় নির্ধারিত সময়ে লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ করা হয়নি। গেটম্যানদের এই অবহেলার কারণেই ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।