Monday 23 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গাইবান্ধার সব কয়টি তেলের পাম্প বন্ধ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৩ মার্চ ২০২৬ ১৮:৩০

গাইবান্ধা: তীব্র জ্বালানি সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে গাইবান্ধা জেলার স্বাভাবিক যানচলাচল। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় জেলার প্রায় সব ফিলিং স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, সিএনজি ও অটোরিকশা চালকসহ পরিবহন সংশ্লিষ্ট শ্রমজীবী মানুষ।

সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে গাইবান্ধা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় বাধ্য হয়ে অধিকাংশ পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও উপজেলা পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও পাম্প খোলা থাকলেও ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে। এতে করে প্রয়োজনীয় কাজেও যানবাহন ব্যবহার করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ।

বিজ্ঞাপন

ভোগান্তিতে পড়া মোটরসাইকেল চালক রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে তিনটা পাম্প ঘুরেছি, কোথাও তেল পাইনি। অফিসে যেতে দেরি হয়ে গেছে। এখন বুঝতে পারছি না কীভাবে চলাচল করব।’

ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি রবিউল আউয়াল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিন গাড়ি চালিয়ে আয় করতে হয়। তেল না থাকলে সংসার চলবে কীভাবে? সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি।’

প্রাইভেট কার শাহীন মিয়া জানান, গত দুইদিন ধরে ঠিকমতো তেল পাচ্ছি না। যাত্রী নিতে পারছি না, আয় একেবারে বন্ধ হওয়ার উপক্রম। দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে আমরা পথে বসে যাব। তেল সংকটে ব্যক্তিগত ও গণপরিবহনের পাশাপাশি জেলার অন্তত শতাধিক অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা বিপাকে পড়েছেন বলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনে বিরম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।

বলাকা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মালিক রানা মিয়া জানান, তেল না থাকায় গতকাল থেকে আমার দুটি গাড়ি গ্যারেজে পড়ে আছে। আজ সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে তিনটা ফোন এসেছিল রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য কিন্তু তেল না থাকায় গাড়ি বের করতে পারিনি।

এদিকে দূরপাল্লার পরিবহন চালকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। অনেক বাস ও ট্রাক চালক বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানি বা সীমিত ট্রিপে চলাচল করছেন। এতে পণ্য পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজার ব্যবস্থায়।

গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার আর রহমান এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আতিকুর রহমান জানান, তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় গতকাল থেকে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ রেখেছে।‌ আমাদের এখানে দৈনিক সাত হাজার লিটার জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে যে পরিমাণ গ্রাহক আসছে তাতে প্রায় ১০ হাজার লিটার প্রয়োজন। অনেক গ্রাহক তেল থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন পাম্পে ভিড় করছে এতে ব্যাক্তি পর্যায়ে মজুদ বেড়ে গেছে সেই সঙ্গে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর