Tuesday 24 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অর্ধশত আসনের ফল চ্যালেঞ্জে সরব পরাজিত প্রার্থীরা

স্টাফ করেসপন্ডেট
২৪ মার্চ ২০২৬ ১৩:১৪

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রায় অর্ধশত আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করেছেন পরাজিত প্রার্থীরা।

এসব মামলার বাদীদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ, ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

হাইকোর্ট এরই মধ্যে মামলাগুলো গ্রহণ করে বিবাদীদের প্রতি নোটিশ জারি করেছেন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ব্যালট পেপার ও ফলাফল শিট নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে প্রয়োজন হলে পুনর্গণনা বা অন্যান্য আদেশ কার্যকর করা যায়।

বিজ্ঞাপন

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনি এই পিটিশনগুলো মূলত দেওয়ানি প্রকৃতির হওয়ায় ‘দেওয়ানি কার্যবিধি’ অনুসারেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ফলে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় এসব মামলা সরাসরি হাইকোর্টে দায়ের করা হয়। হাইকোর্টের রায়ে কেউ অসন্তুষ্ট হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যেতে পারেন। পুরো প্রক্রিয়াটি অনেকটাই নির্ভর করে বাদীপক্ষের সক্রিয়তা, সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন এবং শুনানির গতির ওপর।

অন্যদিকে, বিজয়ী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করার প্রবণতাও দেখা যায়। ফলে বিচার প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হয়।

আইনজীবীরা বলছেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে নির্বাচনি মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে কয়েক বছর লেগে যায়। সাধারণত মামলা দায়েরের পর নোটিশ, জবাব, ইস্যু নির্ধারণ, সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা, যুক্তিতর্ক এবং রায়ের ধাপগুলো সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়।

অনেক ক্ষেত্রে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যায়, যার ফলে সংশ্লিষ্ট সংসদের মেয়াদকাল শেষ হয়ে গেলেও মামলার নিষ্পত্তি হয় না। ফলে বাস্তবিক অর্থে এসব মামলার ফলাফল অনেক সময় কার্যকর গুরুত্ব হারায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে একাধিক নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়মিত শুনানি ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে। একটি ট্রাইব্যুনালের পক্ষে বিপুল সংখ্যক মামলা দ্রুত শেষ করা কঠিন বলেও তারা মত দিয়েছেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে যে কোনো প্রার্থী হাইকোর্টে নির্বাচন পিটিশন দায়ের করতে পারেন। এতে বিজয়ী প্রার্থীর গেজেট বাতিল, পুনঃনির্বাচন কিংবা ভোট পুনর্গণনার আবেদন করা হয়।

বর্তমানে হাইকোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে প্রায় অর্ধশত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির ২৬ জন, জামায়াতে ইসলামীর ২০ জন এবং অন্যান্য দলের কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এসব মামলার শুনানি করছেন।

সব মিলিয়ে, আইনগত জটিলতা ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে এসব মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সারাবাংলা/টিএম/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর