ঢাকা: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কাছ থেকে পরবর্তী কিস্তি হিসেবে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার বিষয়ে আগামী এপ্রিলে সংস্থাটির বোর্ড সভায় চূড়ান্ত আলোচনা হবে। সব ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাসে ঋণের এই কিস্তি পাওয়া যেতে পারে। তবে আইএমএফের সব শর্ত এখনই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, এখন কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব আর বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেগুলো এখন সম্ভব নয়, সেগুলো ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থনীতি এখন যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেখান থেকে সবকিছু আমাদের মতো করেই করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ) সচিবালয়ে ঢাকা সফররত আইএমএফ-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৈঠকে আইএমএফের ঋণ ছাড়ের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে জুলাই মাসে রিভিউ হবে। এর মধ্যেই আমরা বাজেটের প্রস্তুতি নেব। এপ্রিলে ওয়াশিংটনে আইএমএফের “স্প্রিং মিটিং” আছে, সেখানে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি আমদানির জন্য যে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন, সে বিষয়েও আইএমএফের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের স্প্রিং মিটিংয়ে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান কর্মসূচিগুলো পুনরায় পর্যালোচনা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। আইএমএফের যে শর্ত বা রিকোয়ারমেন্টগুলো রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বৈঠক শেষে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন সাংবাদিকদের বলেন, ঋণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আরও আলোচনা হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচির রিভিউ হবে।
অন্যান্য প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাত খুবই খারাপ অবস্থায় ছিল। সেই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যে কথাগুলো বলা আছে, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের অনেক সংস্কার ও ডি-রেগুলেশন দরকার।
দেশের আর্থিক খাতের নাজুক অবস্থার চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং সেক্টর ও শেয়ার বাজার খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। কর-জিডিপি অনুপাতও খুব কম। এগুলো দূর করতে ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা সম্প্রসারণে আমরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থমকে যাওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরায় সচল করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আর্থিক সক্ষমতা অর্জন করতে হলে সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে একটি টেকসই জায়গায় নিতে হবে। ব্যবসা সহজীকরণ এবং ব্যবসার ব্যয় কমানোর জন্য ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ, ব্যাংকিং সেক্টরের চ্যালেঞ্জ, ক্যাপিটাল মার্কেটের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, ট্যাক্স-জিডিপিতে আমরা একেবারে নিম্ন পর্যায়ে । এটা ইম্প্রুভমেন্টের ব্যাপার আছে।’
ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের মুহূর্তে দেশবাসীকে সহানুভূতিশীল ও সংযমী হওয়ার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র এক মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। এর মধ্যেই রমজান গেল, যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট থাকলেও দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা হয়নি। সবাই বাড়ি যেতে পেরেছে, ভাড়া বাড়েনি। গার্মেন্টসে কোনো অস্থিরতা হয়নি এবং তেলের অভাবে কোনো পরিবহন বন্ধ ছিল না।
মন্ত্রী বলেন, সরকার একা এই সংকট সামাল দিতে পারবে না। দেশবাসীকে সহানুভূতিশীল হতে হবে, সংযমের দিকে যেতে হবে। সবাই মিলে সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারব।