Tuesday 24 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সরকার ইতিহাসের শিক্ষা চর্চা করবে: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৪ মার্চ ২০২৬ ১৭:১৪ | আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৮:২৬

বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

ঢাকা: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়েই একটি রাষ্ট্র সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পারে। সরকার ইতিহাসের শিক্ষা লাগাতারভাবে চর্চা করবে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ কনফারেন্স সেন্টারে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের লেখা ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হল অতীতে ফিরে দেখা। তবে সেই স্মৃতিকে শুধু আবেগে সীমাবদ্ধ না রেখে তা নথিবদ্ধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষার উপকরণ হিসেবে উপস্থাপন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ বইটিতে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশি-বিদেশি মহলে একতরফা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল এবং ১৫১টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জনগণের বড় একটি অংশ অংশগ্রহণ না করলে সেই নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য হয় সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এটি ‘নিশিরাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিত। ওই নির্বাচনে তিনি নিজেও প্রার্থী ছিলেন এবং দীর্ঘ এক মাস ১০ দিন নিজ বাড়িতে গৃহবন্দী অবস্থায় থাকতে হয়েছে বলেও অভিযোগ জানান।

সেসময় বাসভবনের সামনে নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান, রাতে অভিযান পরিচালনা এবং রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেফতারের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। একইভাবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ ছিল না। নিজ দল থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড় করানোর মাধ্যমে একটি নির্বাচনি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে ৯০ শতাংশ ভোটার ভোটদানে অংশ নেয়নি।

মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের নির্বাচন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না এবং জনগণ শেষ পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটেও তিনি এ বাস্তবতার প্রতিফলন দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে বিতর্কের সংস্কৃতি গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে সমাজ বিতর্ককে ভয় পায় বা তা এড়িয়ে চলে, সে সমাজ স্থবির হয়ে পড়ে। অন্ধভাবে কোনো কিছু গ্রহণ না করে তা বুঝে গ্রহণ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। এজন্য প্রয়োজন মুক্তচিন্তা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ এবং যুক্তিনির্ভর আলোচনার পরিবেশ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন এবং চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত এর সাংবিধানিক অবস্থান স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত আলোচনাও চলমান রয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা এবং জনগণের প্রত্যাশা বিবেচনায় একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এমন একটি নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে, যা জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বইয়ের প্রকাশক সৈয়দ আবদাল আহমদ।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান, বাংলাভিশন টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও হেড অব নিউজ ড. আবদুল হাই সিদ্দিক।

বইয়ের লেখক ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, শেখ হাসিনা মনে করত তার জীবদ্দশায় আর কেউ রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন তিনিই থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। এই ধরনের বয়ান সেই সময়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের বলতে শোনা গেছে। কিন্তু জনগণই যে সকল ক্ষমতার উৎস তা প্রমাণিত হয়েছে জুলাই গঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে।

বইটিতে রক্তে ভেজা দিন বদলের সনদ; গ্রেফতার আর ডান্ডাবেড়ির রাজনীতি; সিটি নির্বাচন: দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রায়; বিএনপি ভুল করেনি; সভ্য সমাজে হত্যা ও গুম কাম্য নয়; বিপন্ন মানবতা ও জনগণের প্রত্যাশা এবং ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্রসহ ৩৮টি প্রকাশিত নিবন্ধ ছাপা হয়েছে।

এভাবে বিনা ভোটে নির্বাচন; দিনের ভোট রাতে; আমি আর ডামির নির্বাচন; গুম-খুন ও হত্যা; মামলা-হামলা; শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি; ব্যাংক লুট; ঋণ জালিয়াতি দখল; ট্রেন্ডারবাজি; চাকুরী বাণিজ্য; ভর্তি বাণিজ্য; প্রশ্ন ফাঁস এবং ঘুষ-দুর্নীতিসহ আওয়ামী সরকারের দুঃশাসনের চিত্র নিয়ে প্রকাশিত নিবন্ধনগুলো ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ বইয়ে সংকলন আকারের পুনমুদ্রিত হয়েছে।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর