Tuesday 24 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঈদের ছুটিতে বেড়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, ৩ দিনে আহত ৬০


২৪ মার্চ ২০২৬ ১৮:০৩

কোলাজ ছবি: সারাবাংলা

শরীয়তপুর: ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সড়কগুলোতে বেড়েছে মোটরসাইকেলের চাপ। এরই মধ্যে গত তিন দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক দুর্ঘটনায় অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৩ মার্চ) ও মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভেদরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

হাসপাতালে হু হু করে বাড়ছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত রোগীর সংখ্যা। ফলে আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু তরুণ নয়, মোটরসাইকেলযাত্রী হিসেবে থাকা অনেক তরুণীও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মূলত ঈদ উপলক্ষ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণেই দুর্ঘটনা বেড়েছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা হাসপাতাল, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ অথবা যেকোনো উৎসবে উঠতি বয়সের কিশোরদের মোটরসাইকেল চলাচলের তীব্রতা বেড়ে যায়। ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সের কিশোররা একটি মোটরসাইকেল ৩-৪ জন একসাথে ড্রাইভ করে উপজেলা জুড়ে সর্বোচ্চ গতিতে মোটরসাইকেল চালায়। তাদের গাড়ির কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়াই দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। এদের সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সড়কে।

উপজেলায় তেমন কোনো পর্যটন কেন্দ্র না থাকলেও উপজেলা পরিষদের পাশে শিশুদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে শিশু পার্ক। এছাড়াও গাজীপুর ব্রিজ, সখিপুর নিমতলা, বালারহাট ব্রিজ, মহিষার বাবুল খানের দীঘির পাড় সহ কয়েকটি স্পষ্টে ঈদ অথবা যেকোনো উৎসবে মানুষের সমাগম ঘটে। এতে বিকেল হলে বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও ঘুরতে আসেন। স্পটগুলো মহাসড়কের পাশে হওয়ায় দুর্ঘটনার আশংকা বেশি। ঈদের দিন থেকে শুরু করে ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো একাধিক আরোহী বহন এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত তিনদিনে প্রায় ৬০ জন মোটরসাইকেল আরোহী দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছেন।

আহতদের বেশিরভাগ কিশোরের বয়স ১৫-১৭ বছর। আহতদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর জখম হয়ে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়াও বেশ কয়েকজনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল সহ বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। হেলমেট না থাকা ও বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে মাথায় আঘাতের সংখ্যা বেশি। গতকাল সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে রাত দশটা পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

সখিপুর বালার বাজার থেকে বাবার বাইক নিয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা দুই বন্ধুকে সাথে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন ১৭ বছরের রকি। হেলমেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি বাবার গাড়ি নিয়ে ঈদ উপলক্ষ্যে ঘুরতে বেড়িয়েছি তাই কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে আসিনি। আমার তো বয়স হয়নি তাই ড্রাইভিং লাইসেন্স হয়নি। ট্রাফিক পুলিশ ঝামেলা করে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন ঈদের ছুটি তাই রাস্তায় পুলিশ নেই তাই বন্ধুদের সাথে নিয়ে বেড়িয়েছি।

সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় গাজীপুর ব্রিজে দুই বন্ধুসহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে অনিক হাওলাদার (১৭)। তিনি বলেন, ‘আমি মোল্লার হাট থেকে দুই বন্ধুকে নিয়ে গাজীপুর ব্রিজে ঘুরতে এসেছিলাম। ব্রিজ পার হতেই হঠাৎ একজন বয়স্ক মহিলা রাস্তা পার হচ্ছিল। আমার গাড়ির গতি একটু বেশি ছিলো তাই কন্ট্রোল করতে পারিনি। এতে গাড়ী স্লিপ করে পাশের ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আমার মাথায় আঘাত লাগে। আর আমার এক বন্ধুর হাত ভেঙে যায় ও আরেকজনের কোমড়ে আঘাত লাগে। আমাদের মাথায় হেলমেট ছিলো না তাই মাথায় আঘাত লাগছে। হেলমেট ছাড়া গাড়ি চালানো আমার উচিত হয় নি।’

স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা শিশু পার্কে ঘুরতে এসেছেন মাসুম মিয়া। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে পার্কের সামনে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের এই অঞ্চলে তেমন কোনো পর্যটন কেন্দ্র নেই। কিছুদিন আগে উপজেলা প্রশাসন এখানে শিশুদের জন্য একটি পার্ক করে দেয়। এতে আমাদের জন্য বিশাল উপকার হয়েছে। তবে নতুন করে আতঙ্কও সৃষ্টি হয়েছে। ঈদ উপলক্ষ্যে কিছু কিশোর মোটরসাইকেল নিয়ে এই পার্কের সামনে দিয়ে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে যায়। এতে আমাদের ভয় হয় কখন কার বাচ্চা আহত-নিহত হয়। তাদের কারও মাথায় হেলমেট নেই, গাড়ির বিকট শব্দ করে দ্রুত গতিতে চালাচ্ছে। তাদের বয়স মনে হয় ১৫-১৭ বেশি হবে না। প্রশাসনের তেমন তৎপরতা না থাকায় তারা এই ভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। আমি মনে করি তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার বেলায়াত রাজু বলেন, ঈদের দিন থেকে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। বেশিরভাগ রোগীর মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই হেলমেট ব্যবহার না করায় আঘাতের মাত্রা বেশি হচ্ছে। গতকাল একদিনে আমাদের হাসপাতালে প্রায় ৩০ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এসেছেন। তাদের অধিকাংশই কিশোর। এছাড়াও এই তিনদিনে ৬০ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের বেশিরভাগ রুগীকে ঢাকা মেডিকেল ও পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাসার বলেন, ঈদের সময় মোটরসাইকেলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনাও বেড়েছে। অধিকাংশ চালকই হেলমেট ব্যবহার করছেন না এবং অনেকেই ট্রাফিক আইন মানছেন না। দুর্ঘটনা রোধে আমরা বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালাচ্ছি। পাশাপাশি বাবা-মায়েদের প্রতি অনুরোধ ১৮ বছর ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কাউকে মোটরসাইকেল কিনে দিবেন না।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর