ঢাকা: দেশের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় দ্রুত আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) ক্রয়ের উদ্যোগ নিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিজস্ব প্রযুক্তিতে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে এ নোটিশ পাঠান। নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) এবং বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার কমান্ড্যান্টের কাছে পাঠানো হয়।
নোটিশে বলা হয়, প্রতি বছর জাতীয় বাজেটের বড় একটি অংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা হলেও দেশের আকাশসীমা আধুনিক হুমকি৷ বিশেষ করে মিসাইল, যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হামলা থেকে কতটা সুরক্ষিত- তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। জনগণের করের অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে জবাবদিহিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, আধুনিক যুদ্ধের ধরন বদলে গেছে। স্থলযুদ্ধের তুলনায় এখন আকাশপথে হামলার ঝুঁকি অনেক বেশি। বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখনও একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
আঞ্চলিক পরিস্থিতির দিকও তুলে ধরা হয়েছে নোটিশে। বিশেষ করে মিয়ানমারের চলমান সংঘাত এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশ ভারতের এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট বা সমমানের উন্নত চীনা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকা এ দায়িত্ব পালনে অবহেলার শামিল এবং তা নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় এবং নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়নে তহবিল ও অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।