ঢাকা: রেভিনিউ ভাগাভাগির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার ৪৭০ টাকা দিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’।
গত ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত অর্জিত আয়ের অংশ হিসেবে এই অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের দুপুরে ডাক ভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামের কাছে এই চেক হস্তান্তর করেন নগদের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) আফজাল আহমেদ। পরে
নগদ-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এস এম হারুনুর রশীদ, নগদে বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত সহযোগী প্রশাসক মো. নাহিম উদ্দিন এবং নগদের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মো. সামসুল ইসলামসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডাক বিভাগের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, সেবা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রযুক্তি ও আর্থিক বিনিয়োগ করবে নগদ লিমিটেড। এতে ডাক বিভাগের কোনো নিজস্ব আর্থিক বিনিয়োগ থাকবে না। তবে অর্জিত আয়ের (রেভিনিউ) ৫১ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এবং বাকি ৪৯ শতাংশ পাবে নগদ লিমিটেড।
এর আগে, বিভিন্ন মেয়াদে ডাক বিভাগকে মোট ১৪ কোটি ৬০ লাখ ৯৪ হাজার ৬৬০ টাকা রেভিনিউ দিয়েছিল নগদ। এর মধ্যে ২০২৪ সালের মে মাসে ৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ২০২০ সালে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
চেক হস্তান্তরের পর ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম নগদের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নগদ এই খাতে চমৎকার প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে, যা ক্যাশলেস লেনদেনে গ্রাহকদের উৎসাহিত করছে। নগদকে ডাক বিভাগ ও সরকার সমানভাবে ধারণ করে। এখন বছরে ১৩-১৪ কোটি টাকা পাওয়া যাচ্ছে, আশা করি সেই দিন দূরে নয় যখন এখান থেকে সরকার বছরে ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে।
নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে নগদের অবদান অসামান্য। উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রাহক স্বার্থ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়েও নগদ বড় ভূমিকা রাখছে।
২০১৯ সালের মার্চে যাত্রা শুরুর পর থেকেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে নগদ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক গড় লেনদেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সর্বনিম্ন ক্যাশ আউট চার্জ ও উদ্ভাবনী সেবার মাধ্যমে ডিজিটাল আর্থিক খাতে বিপ্লব ঘটিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।