Wednesday 25 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হিলিতে জিরা চাষে নতুন রেকর্ড, ২ শতাংশ জমিতে সাড়ে ৩ কেজি ফলন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৫ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫১

হিলি: দিনাজপুরের সীমান্তঘেঁষা হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় প্রথমবারের মতো জিরা চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন কৃষক হামিদুর রহমান। খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের সাতকুড়ী গ্রামের এই কৃষকের এমন উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং অন্য কৃষকদের মাঝেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

জানা গেছে, কৃষক হামিদুর রহমান শখের বশে অনলাইন থেকে জিরার বীজ সংগ্রহ করেন। এরপর নিজের মাত্র ২ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই অর্থকরী মসলা চাষ শুরু করেন। প্রথমবারেই তিনি প্রায় সাড়ে তিন কেজি জিরা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন।

সাফল্যের বিষয়ে কৃষক হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনো জিরা চাষ হয়নি। তাই কৌতূহল থেকেই অনলাইনের মাধ্যমে বীজ আনিয়ে চাষ শুরু করি। মাত্র ২ শতাংশ জমিতে যে পরিমাণ ফলন হয়েছে, তাতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বাজারের জিরার তুলনায় আমার উৎপাদিত জিরার সুগন্ধ অনেক বেশি। এই সাফল্য দেখে আমি আগামীতে আরও বড় পরিসরে জিরা চাষ করার পরিকল্পনা করছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষক একরামুল হোসেন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের মাটিতে জিরার ফলন এত ভালো হতে পারে, তা আগে কখনো ভাবিনি। গাছগুলো খুব সতেজ হয়েছে এবং ফলনও আশানুরূপ। এই চাষে খরচ যেমন কম, সময়ও লাগে অল্প। আমি নিজেও সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী মৌসুমে জিরার আবাদ করব।’

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মী তাসির উদ্দিন বপ্পী বলেন, ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন থেকে বীজ সংগ্রহ করে নতুন ফসল উৎপাদনে হামিদুর রহমানের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তার এই সাফল্য দেখে সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের অন্য কৃষকরাও এখন জিরা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন ও সঠিক পরিচর্যার অভাবেই মূলত আগে এখানে জিরা চাষ হতো না। তবে হামিদুর রহমানের সাফল্য প্রমাণ করেছে আমাদের মাটি জিরা চাষের উপযোগী। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে এলাকায় মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদনে এক নতুন বিপ্লব ঘটবে।

বিজ্ঞাপন
সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর