রংপুর: উত্তরাঞ্চলে শিল্পায়নের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী সংসদ সদস্য আসাদুল হাবীব দুলু।
তিনি বলেন, এ অঞ্চলে জমি ও শ্রমের খরচ তুলনামূলকভাবে কম এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। তাই বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। রংপুরকে শস্যের ভান্ডার হিসেবে বিবেচনা করে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘উত্তরাঞ্চলে সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় রংপুর বিভাগের আট জেলার ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, উদ্যোক্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
মন্ত্রী দুলু বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা হবে। রংপুর শস্যের ভান্ডার, এখানকার কৃষিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে শিল্পায়ন করা হবে। উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা গেলে নতুন সরকারের শিল্পায়নের আকাঙ্ক্ষা দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি অনুসারে আগামী বছরের মধ্যে উত্তরাঞ্চলসহ সারাদেশের বন্ধ থাকা শিল্প-কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে সরকার বছরের পর বছর ভর্তুকি দিয়ে চালিয়ে যাবে না। প্রতিটি শিল্পকে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও জানান, সরকার নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষায়িত তহবিল গড়ে তুলবে এবং এতে বিশেষ বরাদ্দ দেবে। বিগত দিনে নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তার নামে যে লুটপাট হয়েছে, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখবে। কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সারাদেশ ও বিদেশের যোগাযোগ উন্নয়নে রেলপথের আধুনিকায়ন, স্থলবন্দরগুলোকে আরও উন্নত করা, শিল্পায়নে বিশেষ সুবিধা প্রদান এবং সরকারি জমি শিল্পায়নে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন গাইবান্ধার সংসদ সদস্য শামীম কায়সার, রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহাবুবুর রহমান বেলাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, রংপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশন প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, রংপুর চেম্বারের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও এফবিসিসিআই সংগঠক মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুসহ অনেকে।
উত্তরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে শিল্পায়নের অভাবে কর্মসংস্থান সীমিত। সরকারের এই উদ্যোগ যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন আলোচনা সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা।
সভায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা উত্তরাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও একক উইন্ডো সেবার দাবি জানান। মন্ত্রী ও উপদেষ্টা তাদের দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বলেন, সরকার এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
এই আলোচনা সভা উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করে সমতাভিত্তিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের এই ঘোষণা যদি দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, তাহলে রংপুরের ‘আলুর রাজধানী’ পরিচয়ের পাশাপাশি শিল্পায়নের নতুন অধ্যায় শুরু হবে—যা লাখো তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং অঞ্চলের অর্থনৈতিক চেহারা পাল্টে দেবে বলে মনে করেন বক্তারা।