Thursday 26 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

দৌলতদিয়া বাসডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৬ মার্চ ২০২৬ ১১:৫০ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ১৩:০৮

ছবি: সারাবাংলা

রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। সব মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষশিশু ৪ জন, মেয়েশিশু ৩ জন, মহিলা ১১ জন, পুরুষ ৭ জন।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পাড়ি দিতে অপেক্ষমাণ ঢাকাগামী ‘সৌহাদ্য পরিবহন’ এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। পড়ে যাওয়া বাসটি রাত ১টা নাগাদ পুরো বাসটি জাহাজ হামজার ক্রেন দিয়ে টেনে পানির ওপরে তোলা হয়।

এ ঘটনায় বাস থেকে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

নিহতরা হলেন, রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুরের লালমিয়া সড়কের মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মজমপুর গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া সদরের খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা গ্রামের মৃত ডা. আবদুল আলীমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭), কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাইফ (৩০), কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭), গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ডাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২), রেজাউল করিমের মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার সমাজপুর ইউনিয়নের ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনর সন্তান ইস্রাফিল (৩), কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের সন্তান ফাইজ শাহানূর (১১), বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখোলা গ্রামের আরব খানের ছেলে আরমান খান (৩১) গাড়িচালক, কালুখালী উপজেলার মহেন্দ্রপুর ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী নাজমিরা জেসমিন (৩০), রাজবাড়ী সদর উপজেলা মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোবাহান মন্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬), বড় চর বেনিনগরের মান্নান মন্ডলের স্ত্রী জোস্ন্যা (৩৫), গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের নোয়োধা গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মথুয়ারাই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রীর নাছিমা (৪০), ঢাকা জেলার আশুলিয়া উপজেলার বাগধুনিয়া পালপাড়া গ্রামের মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার (১১), কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার সমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে আরমান (৭ মাস), কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রহমান (৬), রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদসি ইউনিয়নের আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে সাবিত হাসান (৮), ভবানীপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইসমাইল হোসেন খানের ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), কালুখালী উপজেলার মজনুর ছেলে উজ্জল, চরমদাপুরের আফসার মন্ডলের ছেলে আশরাফুল, কালুখালীর সানাউল্লাহের ছেলে জাহাঙ্গীর।

২৬ জনের মরদেহের মধ্যে ২২ জনের মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান বলেন, দৌলতদিয়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ জনের মরদেহ রাতেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটি ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আরেকটি কমিটি ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের যৌথ তৎপরতা রাতে চালিয়ে যাচ্ছে এবং সকাল থেকে আরও বিস্তৃত এলাকায় তল্লাশি চালানো হবে। নিখোঁজদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। মরদেহ শনাক্তের পর জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই টাকাটা শুধুমাত্র দাফন করার জন্য দেওয়া হবে। এছাড়াও আহত কেউ থাকলে ইনস্ট্যান্ট তাকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। যারা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমাদের ছেড়ে চলে গেছে এই সংখ্যাটা যখন পরিপূর্ণভাবে আমরা নিরূপণ করতে পারব, তখন আমরা সবাই মিলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে সৌহাদ্য পরিবহন বাসটি যাত্রা শুরু করে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েনদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর